শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৮:২৯ পূর্বাহ্ন

পদ্মা সেতুকে কেন্দ্র করে ১৭টি অর্থনৈতিক অঞ্চলে মহাপরিকল্পনা বেজার

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১২৬
আপডেট : বুধবার, ২৯ জুন, ২০২২, ৩:৩৩ পূর্বাহ্ণ

 

পদ্মা সেতু চালু হওয়ার মাধ্যমে যোগাযোগের নতুন দ্বার খুলেছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার। এ সেতু সংযুক্ত হবে এশিয়ান হাইওয়ের সঙ্গে যার মাধ্যমে উক্ত এলাকার শিল্পায়নের এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। পদ্মা সেতুকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগে ১৭টি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে

এ প্রসঙ্গে বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ ইউসুফ হারুন বলেন, মোংলায় বাস্তবায়নাধীন দুটি অর্থনৈতিক অঞ্চলে খুব শিগ্গিরই শিল্প নির্মাণ কাজ শুরু হবে। এছাড়া পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হবে গোপালগঞ্জ, খুলনা, মাদারীপুর, সাতক্ষীরা ও কুষ্টিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চল যা সমগ্র দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

বেজা সূত্রে জানা যায়, বাগেরহাট জেলার মোংলা উপজেলায় ২০৫ একর জমি নিয়ে মোংলা বন্দরসংলগ্ন এলাকায় মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করা হয়েছে। বেজা কর্তৃক মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রশাসনিক ভবন, সীমানা প্রাচীর, ব্রিজ, সংযোগ সড়ক, ৩৩/১১ কেভিএ সাব-স্টেশন ও সুপেয় পানি সরবরাহ লাইন নির্মাণ করা হয়েছে। অর্থনৈতিক অঞ্চলটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে সরকারি বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে। এ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ইতিমধ্যে তিনটি শিল্প নির্মাণে জমি বরাদ্দে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চলের পাশে প্রায় ১০৫ একর জমি নিয়ে স্থাপন করা হচ্ছে আরেকটি অর্থনৈতিক অঞ্চল যা জিটুজি ভিত্তিতে ভারত সরকার কর্তৃক নিযুক্ত ডেভেলপার কর্তৃক নির্মাণ করা হবে। এছাড়া বাগেরহাট জেলায় সুন্দরবন সংলগ্ন ১ হাজার ৫৪৬ একর জমি নিয়ে একটি ট্যুরিজম পার্ক স্থাপনেরও পরিকল্পনা রয়েছে বেজার।

বেজা সূত্রে জানা যায়, শরীয়তপুর জেলার জাজিরা ও গোসাইরহাট উপজেলায় দুটি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনে বেজা গভর্নিং বোর্ডের অনুমোদন রয়েছে। মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলায় ১১২৫ একর জমির ওপর অর্থনৈতিক অঞ্চল স্হাপনে নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে। এছাড়া ফরিদপুর জেলার সদর উপজেলায় আনুমানিক ৮৮৮ একর জমি নিয়ে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্হাপনে সিদ্ধান্ত রয়েছে। গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়া উপজেলায় প্রায় ২০০ একর জমির ওপর একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্হাপনে ইতিমধ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজ শেষ করা হয়েছে। খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলায় প্রায় ২০৮ একর জমির ওপর একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্হাপনে সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়। এছাড়া খুলনা জেলার তেরখাদা উপজেলার প্রস্তাবিত ৫০৯ একর জমি নিয়ে আরেকটি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্হাপনে গভর্নিং বোর্ডের সিদ্ধান্ত রয়েছে।

মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলায় প্রায় ২০৫ একর জমিতে এবং সাতক্ষীরা জেলার সদর উপজেলার প্রায় ২০৬ একর জমিতে অর্থনৈতিক অঞ্চল স্হাপনে সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজ হাতে নিয়েছে বেজা। এছাড়া বরিশাল জেলার আগৈলঝড়া উপজেলায় অর্থনৈতিক অঞ্চল স্হাপনে সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজ শেষ হয়েছে ও হিজলা উপজেলায় চরমেঘায় ১ হাজার ৭২৯ একর জমি নিয়ে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের অনুমোদন রয়েছে। ভোলা জেলায় ভোলা সদর উপজেলাধীন ২০৮ একর জমির নিয়ে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

বেজার কর্মকর্তারা জানান, কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামাড়া উপজেলায় ৩৮২ একর জমির উপর নির্মিত হবে কুষ্টিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চল। কুষ্টিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চল স্হাপনে সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজ চলমান রয়েছে। কুষ্টিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চল স্হাপনে বেজা ইতিমধ্যে ৩৮২ একর জমির মালিকানা গ্রহণ করেছে। এছাড়া ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলায় মাওয়ার সন্নিকটে প্রায় ৮০০ একর জমি নিয়ে অর্থনৈতিক অঞ্চল স্হাপনে ডিপিপি প্রস্ত্তত করা হয়েছে, এ সকল উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পরিকল্পিত শিল্পায়নকে আরো ত্বরান্বিত করবে বলে বেজার কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করছেন।

 


এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

Theme Customized By Theme Park BD