শনিবার, ১৮ মে ২০২৪, ০৭:৪০ পূর্বাহ্ন

বাড়ছে অধিকাংশ নদনদীর পানি

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৯৮
আপডেট : শনিবার, ১২ আগস্ট, ২০২৩, ১২:৩২ অপরাহ্ণ

শেষ শ্রাবণের বর্ষণ আর উজানী ঢলে দেশের অধিকাংশ নদ-নদীর পানি বাড়ছে। ব্রহ্মপুত্র-যমুনা-তিস্তা-গঙ্গা-পদ্মা, সুরমা-কুশিয়ারাসহ প্রধান নদীগুলোর পানি বিপত্সীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। শ্রাবণের বৃষ্টি বলয় সক্রিয় থাকায় আজ শনিবার থেকে সারাদেশে বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে এবং তা ১৬ আগস্ট বুধবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। তবে আগামী তিনদিন বিশেষ করে রংপুর, চট্টগ্রাম, ঢাকা, সিলেট ও ময়মনসিংহে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক গতকাল বলেন, দেশের সব বিভাগেই এ মাসজুড়ে বৃষ্টি হবে। ১৬ আগস্ট পর্যন্ত মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি থাকবে। এদিকে দেশের ১০৯টি পানি সমতল পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে ৫৪টিতে নদীর পানি সমতল বেড়েছে, তিনটি স্টেশনে পানি সমতল অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্ষাকালে এই বর্ষণ এবং উজানের পানির কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের মতো কোথাও কোথাও স্বল্পকালিন বন্যার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া পর্যবেক্ষকরা। চট্টগ্রামসহ পাঁচ জেলায় ভারি বর্ষণে সৃষ্ট বন্যা অব্যাহতভাবে নামছে। এতে কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। পানি কমার সাথে সাথে ভেসে উঠছে বন্যার ক্ষতচিহ্ন। গ্রামীণ রাস্তাঘাট ভেঙে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পাঁচদিন পর বান্দরবানের সঙ্গে ঢাকার সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে। সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপত্সীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আশ্রয় কেন্দ্রে থাকা লোকজন নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন। বান্দরবান শহরে বিদ্যুত্ সরবরাহ চালু হয়েছে। তবে সুপেয় পানির সংকট তীব্র আকার ধারন করেছে।

পার্বত্য অববাহিকা থেকে পানি নেমে অন্য এলাকা প্লাবিত করছে। যমুনা নদীর বগুড়ার সারিয়াকান্দি পয়েন্টের ডান তীরে প্রবল ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। অন্তত আধা কিলোমিটার কৃষি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ফেনীতে ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে মুহুরী নদীর পানি বিপত্সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানির চাপে মুহুরী বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ভেঙে অন্তত ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

এদিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম বড়ুয়া জানান, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মা নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। আগামী ২৪ ঘন্টায় তিস্তা নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেতে পারে এবং ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার কাছে পৌঁছাতে পারে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, মৌসুমী বায়ুর অক্ষ ভারতের পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারী অবস্থায় রয়েছে। রংপুর, ময়মনসিংহ এবং সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায়; ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।  বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম জানায়, বর্তমানে বাংলাদেশে শ্রাবণের বৃষ্টি ‘বলয়ধারা’ সক্রিয় রয়েছে প্রবলভাবে। যার কারণে আগষ্টের শুরু থেকে বাংলাদেশের বেশিরভাগ স্থানেই মোটামুটি বৃষ্টিপাত হয়েছে। সেই সাথে চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক এলাকা ভারী বর্ষণে প্লাবিত হয়। উপকূলসহ দেশের অভ্যন্তরে ও উত্তরাঞ্চলেও মোটামুটি ভারী বৃষ্টিপাত লক্ষ্য করা গেছে। তবে মৌসুমী অক্ষের অবস্থান পরিবর্তনে এবং কিছুটা দুর্বল হওয়ায় গত ৯ আগস্ট হতে দেশে বৃষ্টিপাত হ্রাস পেতে শুরু করে। যা অনেকটা বিক্ষিপ্তভাবে বর্তমানেও অব্যাহত রয়েছে। আজ শনিবার থেকে মৌসুমী অক্ষ আবারও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। এতে মৌসুমী অক্ষের অবস্থান অনুযায়ী বাংলাদেশে এবং উত্তর-পূর্ব ভারতে বৃষ্টিপাত বৃদ্ধির যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।

যমুনা তীরের প্রায় ৫০০ মিটার নদীগর্ভে: বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলায় কামালপুর ইউনিয়নে যমুনা নদীর ডান তীরে ভাঙন দেখা দিয়েছে। অন্তত সাড়ে ৪শত মিটারের বেশী কৃষি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। গত বুধবার থেকে ভাঙন শুরু হয়। ইতোমধ্যে নদীর তীর রক্ষায় প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। পাউবো জানায়, বগুড়া সারিয়াকান্দিতে ৭ আগস্ট থেকে পানি বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। সেদিন পানির উচ্চতা হয় ১৫.১২ মিটার। গতকাল শুক্রবার সকালে সারিয়াকান্দিতে পানির উচ্চতা ছিল ১৫.৪৭ মিটার। সারিয়াকান্দিতে যমুনা নদীর পানির বিপত্সীমা ১৬.২৫ মিটার। তাই পানি এখনো বিপত্সীমার .৭৮ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে যমুনার পানি বৃদ্ধিতে যমুনাচরের মানুষরা তাদের গৃহপালিত পশু পাখি, পরিবারের প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র নিয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ, কোনও উঁচু স্থানে অথবা বন্যা আশ্রয়ন কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে  প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইতোমধ্যেই যমুনা চরের নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়েছে। বগুড়া জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল হক জানান, উজানে ভারী বৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে।


এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

Theme Customized By Theme Park BD