সোমবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২২, ১২:৫০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

বাবুগঞ্জে ওয়াক্ফ সম্পত্তি দখল করে মার্কেট নির্মাণ!

এখনই সময় ডেস্ক / ১০০
আপডেট : শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২০, ২:১২ পূর্বাহ্ণ

✪ আরিফ আহমেদ মুন্না ➤ বাবুগঞ্জ উপজেলার পাংশা গ্রামে ওয়াক্ফ এস্টেটের সম্পত্তি দখল করে মার্কেট নির্মাণ করছেন প্রভাবশালীরা। এমন অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন ওয়াক্ফ এস্টেটের নিযুক্ত মোতওয়াল্লী। আদালত থেকে ওই অবৈধ নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নিষেধাজ্ঞা দিলেও তা মানছেন না প্রভাবশালী দখলদাররা বলে অভিযোগ করেছেন সম্পত্তির মোতওয়াল্লী মিলন সিকদার। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ব্যবসায়ী আবুল ফজল মিয়া ওরফে এম.আলী এবং অপর অভিযুক্ত সাখাওয়াত হাওলাদার।

সরেজমিন অনুসন্ধান ও স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নের পাংশা গ্রামের জে.এল-৪৪ মৌজার ২৩১ নং খতিয়ানের ৩৯ নম্বর দাগে ১০ শতাংশ সম্পত্তি ১৯৩৫ সালে ওয়াক্ফ (আল্লাহ্’র নামে দান) করেন পাংশা গ্রামের সমাজসেবক মিয়াজান সিকদার। পরবর্তীতে মাঠজরিপকালে ওই সম্পত্তি ওয়াক্ফ সম্পত্তি হিসেবে এস.এ রেকর্ডভুক্ত হয় এবং মিয়াজান সিকদারের ছেলে আবদুল মমিন সিকদার ওই ওয়াক্ফ এস্টেটের তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণ করার জন্য মোতওয়াল্লী (কেয়ারটেকার) নিযুক্ত হন। মমিন সিকদারের মৃত্যুর পরে তার ছেলে মোতালেব সিকদার এবং মোতালেব সিকদারের মৃত্যুর পরে বিগত ২০১৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি মিলন সিকদারকে মোতওয়াল্লী নিয়োগ করে ওয়াক্ফ প্রশাসকের কার্যালয়।

ওয়াক্ফ এস্টেটের তদারকিতে সর্বশেষ নিযুক্ত মোতওয়াল্লী মিলন সিকদার অভিযোগ করেন, ওয়াক্ফ সম্পত্তির পাশের দাগ থেকে ২০ শতাংশ জমি কেনেন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী আবুল ফজল মিয়া ওরফে এম.আলী এবং সাখাওয়াত হাওলাদার। তবে ব্যবসায়ী এম.আলী এবং সাখাওয়াত হাওলাদার এস.এ ২৩১ নং খতিয়ানের ৩৯ নম্বর দাগে অবস্থিত ওই ওয়াক্ফ এস্টেটের প্রায় ১০ শতাংশ জমি দখল করে সেখানে বহুতল ভবন ও মার্কেট নির্মাণকাজ শুরু করেন। এ ব্যাপারে বরিশালের ওয়াক্ফ প্রশাসকের কার্যালয়ে জানালে ওয়াক্ফ প্রশাসনের কর্মকর্তারা সরেজমিনে এসে তাদের ওই নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার অনুরোধ করেন।

পাংশা গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দাদের উপস্থিতিতে ওয়াক্ফ প্রশাসনের কর্মকর্তারা ওয়াক্ফ আইনের নীতিমালা বুঝিয়ে দিয়ে ব্যবসায়ী এম.আলী এবং সাখাওয়াত হাওলাদারকে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার জন্য অনুরোধ করলেও তারা তাতে কর্ণপাত করেননি। এ ঘটনায় পরবর্তীতে ওয়াক্ফ এস্টেটের মোতওয়াল্লী মিলন সিকদার বাদী হয়ে গত ১ অক্টোবর ওই নির্মাণকাজ বন্ধের নিষেধাজ্ঞা চেয়ে বরিশালের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলার আবেদন মঞ্জুর করে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৪৪ ও ১৪৫ ধারার বিধানমতে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিমানবন্দর থানার ওসিকে আদেশ দেন এবং একইসাথে বাবুগঞ্জের ভূমির সহকারী কমিশনারের (এসি ল্যান্ড) কাছে উল্লেখিত বিষয়ে আদালতে একটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

এদিকে আদালতের ওই নির্দেশ পাওয়ার পরে গত ৩ অক্টোবর ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয় বিমানবন্দর থানা পুলিশ। কিন্তু ক্ষমতার জোরে ওই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পরদিনই সেখানে মার্কেটের ফ্লোর ঢালাই করেন এম.আলী এবং সাখাওয়াত হাওলাদারের লোকজন। তাদের বাঁধা দিতে গেলে উল্টো চাঁদাবাজি মামলা দিয়ে ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন ওয়াক্ফ এস্টেটের মোতওয়াল্লী মিলন সিকদার। আল্লাহ্’র নামের ওই সরকারি ওয়াক্ফ সম্পত্তি রক্ষা করতে গিয়ে বর্তমানে প্রভাবশালীদের মামলা-হামলার হুমকির মুখে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান তিনি।

এদিকে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী সাখাওয়াত হাওলাদার ও আবুল ফজল মিয়া ওরফে এম.আলী মুঠোফোনে বলেন, ‘ওয়াক্ফ সম্পত্তি আমাদের দলিলমূলে ক্রয় করা। তাছাড়া প্রতিপক্ষরা যেহেতু আদালতে মামলা করেছে তাই আদালতেই নির্ধারণ হবে জমির বৈধ মালিক কারা। তাই এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাই না। পুলিশ এসে নির্মাণকাজ বন্ধ করে যাবার পরে ওখানে আর কোনো কাজ হয়নি বলে দাবি করেন তারা।’ তবে ওয়াক্ফ এস্টেটের সম্পত্তি কীভাবে ক্রয় করে আবার দলিল করলেন?-এমন প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেননি এম.আলী।

বাবুগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (এসি ল্যান্ড) নুসরাত জাহান খান বলেন, ‘১৯৬২ সালের ওয়াক্ফ আইন অনুসারে ওয়াক্ফ এস্টেট ক্রয়-বিক্রয় কিংবা হস্তান্তর যোগ্য নয়। তাই ওয়াক্ফ সম্পত্তি দখল করা কিংবা সেখানে স্থাপনা নির্মাণ করা সম্পূর্ণ অবৈধ। বিরোধীয় সম্পত্তিতে মিলন সিকদারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রট আদালত একটি তদন্ত প্রতিবেদন চেয়েছেন। তাই সংশ্লিষ্ট মাধবপাশা ইউনিয়নের ভূমি সহকারী কর্মকর্তাকে (তহশিলদার) ঘটনাস্থলে গিয়ে সরেজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।’ #


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরও খবর
Theme Customized By Theme Park BD
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: