বৃহস্পতিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ০২:৫৬ অপরাহ্ন

কি ভাবে কাদিয়ানী ধর্মের উৎপত্তি

এখনই সময় ডেস্ক / ৪৪
আপডেট : রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২০, ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ

আবু  মহি  মুছা   :   দিয়ানী ধর্মের প্রবর্তক মির্জা গোলাম আহম্মদের জন্ম ভারতের গুরুদাসপুর জেলার  কাদিয়ান  গ্রামে। এ জন্য তার নামের শেষে কাদিয়ানী লেখা হয়। তিনি এক সময় নিজেকে নবী হিসেবে দাবি করেন। এ বিষয়ে কাদিয়ানীর সাথে সুন্নী স্কলারের  একটি বাহাজ হয়। সুন্নি আলোচক যখন পবিত্র কোরানে উদ্ধৃতি দেন, কাদিয়ানী সে উদ্ধৃতিকে অগ্রাহ করেন। ফলে সে বাহাজ ব্যর্থ  হয়ে যায়। আমি কোরানে উদ্ধৃতি দেবো না। এ বিষয়ে দর্শন কি বলছে এটাই এখানে তুলে ধরতে চাই।

নবী কাকে বলে? একজন নবী হওয়ার যে বিশেষত্ব বা গুণাবলী থাকা প্রয়োজন তা কাদিয়ানীর মধ্যে ছিল কিনা। পৃথিবীর প্রত্যেকটি ধর্মে একটি দর্শন রয়েছে, তাদের সেই দর্শন বাণী আকারে ধর্মগ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে। তবে অনেক ধর্মের লিখিত গ্রন্থ নেই বলে জানা গেছে। প্রত্যেকটি ধর্মের দর্শন মানুষের কল্যাণের কথা রয়েছে। নবীদের দর্শন যে মানুষের কল্যাণের কথা বলেছে, ঠিক তেমনি মহাযুগের গোড়ার দিকে দার্শনিকদের দর্শনও মানুষের কল্যাণের কথা বলেছে। প্রশ্ন হচ্ছে দার্শনিকদের দর্শন ধর্ম হলো না কেন? নবীদের দর্শন সাধারণ মানুষের জন্য । যেমন আদেশ, নিষেধ, উপদেশ হচ্ছে নবীদের দর্শনের মূল ভিত্তি। নবীদের দর্শন ধর্ম হওয়ার মূল কারণ, নবীদের দর্শনের সাথে দুটো উইং থাকে। একটি হচ্ছে লৌকিকতা। আচার, অনুষ্ঠান, অনুশীলন। অর্থাৎ রোজা, নামাজ, হজ্ব ইত্যাদি। অন্যটি হচ্ছে আধ্যাত্মিকতা। আধ্যাত্মিক শক্তি। নবীদের ক্ষেত্রে মোজেজা। অলি আল্লাহদের ক্ষেত্রে কেরামতি। ধর্ম প্রবর্তনের জন্য  এই আধ্যাত্মিকতা যদি  না থাকতো তাহলে সে সময়ে ধর্মের প্রবর্তন করা সম্ভব ছিল না। প্রত্যেক নবীদের মোজেজা দেওয়া হয়েছে।  কাদিয়িানীর ধর্মের নিজস্ব কোনো দর্শন আছে? ইসলাম ধর্মের পর শিখ ধর্মের প্রবর্তন করা হয়েছে। তাদের প্রর্থনা ভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে।  কিন্তু কাদিয়ানীর ধর্মের নবী হিসেবে দাবি করার কি গুণ ছিল? কাদিয়ানীদের নিজস্ব প্রর্থনার কোনো পদ্ধতি নেই। ছিল না কোনো মজেজার ব্যাপর। তারাও নামাজ পড়ে, রোজা রাখে। বিষয়টি এরকম ইহুদীরা যেমন ফিলিস্তিনিদের জায়গা অবৈধভাবে দখল করে ইসরাইল নামক একটা দেশ সৃষ্টি করেছে। কাদিয়ানী ঠিক তেমনি ইসলাম ধর্মকে ‘হাইজ্যাক’ করে ইসলাম ধর্মকে আহম্মাদিয়া মুসলিম জামাত বা কাদিয়ানী ধর্ম  বলে ঘোষণা করেছে। কাদিয়ানী ধর্মের মধ্যে নতুন সংযোজনের জন্য পবিত্র কোরানকে বিকৃত করতে চেষ্টা করেন। পবিত্র কোরোনে অনেক কিছুকে তিনি স্বীকার করেননিা।

ইসলাম ধর্ম প্রবর্তনের পর ইসলাম ধর্ম বহু অংশে বিভক্ত হয়ে পড়ে। যেমন শিয়া এবং সুন্নি।  এ পর্যায়ে এসে সুন্নিদের মধ্য থেকে ইসলাম আবার দুই অংশে বিভক্ত হয়।  এই ইসলামকে দ্বিখন্ডিত করার পিছনে উপনিবেশিক আমলে  ব্রিটিশদের একটা চক্রান্ত ছিল। একটি ব্রিটিশ সরকারের অনুগত্য ইসলাম। অন্যটি আল্লাহর অনুগত্য ইসলাম। ইসলামে গণজোয়ার দেখে ইসলামকে ধ্বংস করার জন্য  ব্রিটিশরা গোলাম আহম্মাদ কাদিয়ানীকে চয়েস করলো। এবং তাকে নবী হিসেবে দাবি করার পরামর্শ দিল।   অর্থলোভী কাদিয়ানী ব্রিটিশদের হীন ষড়যন্ত্র বাস্তবাযেনের জন্য যা যা করার দরকার তাই করেছেন। গোলাম আহম্মাদ কাদিয়ানী হযরত মহোম্মাদ(সঃ)কে শেষ্ট নবী হিসেবে মানেন, কিন্তু শেষ নবী হিসেবে মানেন না।

কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের মধ্যে অনেক স্কলার আছেন, তারা কি ভালো মন্দ বোঝেন না। দার্শনিক দৃষ্টিকোণ থেকে বলা হয়েছে, পৃথিবীর ৯৯,৯৯ ভাগ মানুষের জ্ঞান পশু পাখির জ্ঞানের চেয়ে কম। তাই যদি হয়, তাহলে তো বলতে হয় তার তো মূর্খ স্কলার। কোনো সন্দে নেই কাদিয়ানী একজন ভন্ড এবং অর্থলোভী শয়তান ছিলেন। পৃথিবীর ৪৮টা দেশে কাদিয়ানী সম্প্রাদয়কে অমুসলিম ঘোষনা করে। তাদেরকে শুধু অমুসলিম ঘোষাণাই নয়, তাদের ধর্মীয় প্রচার বন্ধ করা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।  কারণ ওরা ইসলাম ধর্মকে ধ্বংস করার পায়তারা করছে। হিন্দু , বৈদ্য, খ্রীস্টান, শিখদের সাথে ইসলাম ধর্মের কোনো বিরোধ নেই। কাদিয়ানীর সাথে বিরোধ একারণে,  তার ইসলাম ধর্মকে বিকৃত করছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরও খবর
Theme Customized By Theme Park BD
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: