বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:৫১ অপরাহ্ন

মামলার এজাহারে যা বলেছে নুসরাত

এখনই সময় ডেস্ক / ১১
আপডেট : মঙ্গলবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২১, ১০:০৯ অপরাহ্ণ

এখনই সময় :

“আমার বোন মোসারাত মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের এইচএসসির শিক্ষার্থী। দুই বছর আগে বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীরের সঙ্গে আমার বোনের পরিচয় হয়। পরিচয়ের পর থেকেই বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে তারা দেখা করতো এবং মোবাইল ফোনে কথা বলতো। একপর্যায়ে আমার বোন মুনিয়ার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে তার। ২০১৯ সালে উক্ত আসামি আমার বোনকে স্ত্রী পরিচয় দিয়ে বনানীতে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করে।

২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে আসামির পরিবার মুনিয়ার সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্কের কথা জানতে পারে। পরে পিয়াসা নামে এক নারীর মাধ্যমে আনভীরের মা মুনিয়াকে ডেকে নিয়ে ভয়ভীতি দেখায় এবং ঢাকা থেকে চলে যেতে বলে।”

 

মামলার এজাহারে আরও বলা হয়েছে,

“এ ঘটনার পর আসামি আনভীর আমার বোনকে কৌশলে কুমিল্লায় পাঠিয়ে দেয় এবং পরে বিয়ে করবে বলে আশ্বাস দেয়।

সব শেষে গত মার্চ মাসের এক তারিখে আসামি সায়েম সোবহান আনভীর মুনিয়াকে প্ররোচিত করে আমার এবং আমার স্বামীর এনআইডি কার্ড দিয়ে বাসা ভাড়া নিতে বলে। কুমিল্লা থেকে ফুসলিয়ে মুনিয়াকে নিয়ে এসে গুলশানের ১২০ নম্বর সড়কের ১৯ নম্বর বাসার বি/৩ ফ্যাটটি ভাড়া নেয় আসামি আনভীর। ভাড়া নেওয়া ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে আসামি সায়েম সোবহান আনভীর ও মুনিয়ার ছবি বাঁধিয়ে রাখে।

এমনভাবে ছবি রাখে যেন তাদের স্বামী-স্ত্রী বলে মনে হয়। আনভীর এলে ওই কক্ষটিতেই থাকতো।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, “আমার বোনের মাধ্যমে আমি জানতে পারি আসামি আনভীর মুনিয়াকে বিয়ে করে দেশের বাইরে সেটেল করবে। কারণ, বাংলাদেশে যদি আসামির বাবা-মা মুনিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের কথা জানতে পারে তাহলে আনভীরকে কিছু করবে না, মুনিয়াকে মেরে ফেলবে।

মামলায় বলা হয়, গত ১ মার্চ থেকে আসামি সায়েম সোবহান আনভীর আমার বোন মুনিয়াকে গুলশানের ফ্ল্যাটে রাখে। সে মাঝে মাঝে ওই ফ্ল্যাটে স্বামীর মতো আসা যাওয়া করতো। গত শুক্রবার আমার বোন ফোন করে জানায়, আনভীর তাকে বকা দেয়, কেন সে ফ্ল্যাট মালিকের বাসায় গিয়ে ইফতার করে এবং ছবি তোলে। কারণ জানতে চাইলে আনভীর বলে ফ্ল্যাট মালিকের স্ত্রী ফেসবুকে ছবি পোস্ট করেছে। এটা পিয়াসা দেখেছে। পিয়াসা মালিকের স্ত্রীর ফেসবুক ফ্রেন্ড এবং পরিচিত ছিলেন। পিয়াসা তার মাকে সব জানিয়ে দিবে বলে আনভীর জানায়। এছাড়া আনভীর মোসারাতকে বলে তোমার আর এখানে থাকার দরকার নাই। তুমি কুমিল্লায় চলে যাও। আমি দুবাই চলে যাচ্ছি। কারণ, আম্মা জানতে পারলে তোমাকে মেরে ফেলবে।

বড় বোন নুসরাত মামলায় উল্লেখ করেন, ২৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে মুনিয়া তার মোবাইল নম্বর থেকে আমাকে ফোন করে কান্নাকাটি করে বলে আমাকে আনভীর বিয়ে করবে না। আনভীর মুনিয়াকে জাস্ট ভোগ করেছে এবং বলেছে তুই আমার শত্রুর সঙ্গে মিলিত হইছিস। মনে রাখিস তোকে আমি ছাড়বো না। আমাকে চিৎকার করে কান্না করতে করতে বলে, যেকোনও সময় আমার বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তোমরা তাড়াতাড়ি ঢাকায় আসো।

নুসরাত বলেন, ‘আমি এলাকার মামাতো বোন ইভা ও ফুফাতো ভাই ইকবালকে নিয়ে সোমবার দুপুরে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হই। আসার পথে মুনিয়ার ফোনে অসংখ্যবার যোগাযোগ করি, কিন্তু সে রিসিভ করেনি। বিকালে বাসায় পৌঁছে দরজা নক করলে ভেতর থেকে সাড়াশব্দ না পেয়ে নিচে নেমে সিকিউরিটি গার্ডের রুম থেকে বাসার ইন্টারকমে ফোন করি। কিন্তু ভেতর থেকে কোনও সাড়া না পেয়ে ফ্ল্যাটের মালিকের নম্বরে ফোন করলে মিস্ত্রি এনে তালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করার পরামর্শ দেন। পরে ওই বিল্ডিংয়ের ম্যানেজারকে দিয়ে মিস্ত্রি এনে তালা ভেঙে ভেতরে মুনিয়াকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলে থাকতে দেখি। মুনিয়ার পা খাটের সঙ্গে লাগানো ছিল। পরে ম্যানেজার বিষয়টি পুলিশকে জানায়। পুলিশ এসে তার লাশ উদ্ধার করে এবং বাসা থেকে মুনিয়া ও আনভীরের একাধিক ছবি ও মোবাইল ফোন আলামত হিসেবে জব্দ করে।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরও খবর
Theme Customized By Theme Park BD
x
%d bloggers like this:
x
%d bloggers like this: