বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৬:৩২ অপরাহ্ন

ভূ-পৃষ্ট ধ্বংশের মুখোমুখি

এখনই সময় ডেস্ক / ১২
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২১, ১:১২ অপরাহ্ণ

 

হাসান কাজল: মানব সভ্যতা আজ হুমকির মুখে।  আধুনিক যোগাযোগ , শিল্প উন্নয়ন, যুদ্ধ,মারণাস্ত্রের প্রতিযোগীতা,ব্যাপকহারে প্রকৃতি ধ্বংস বর্তমান মানব সভ্যতাকে  ধ্বংসের শেষ প্রান্তে নিয়ে এসেছে। একের পর এক বিপদ পৃথিবীর ঘাড়ে নি:শ্বাস ফেলছে। বিধাতা মানবকুল সৃষ্টি করে মানবতার দূত বানিয়ে, পৃথিবী নামক ভূ-খন্ডে পাঠিয়েছে প্রকৃতির কোলে, প্রকৃতির সন্তান করে।  মানুষ আর মানব সভ্যতা প্রকৃতির কোলে হেসে খেলে বেড়ে উঠেছে আপন মহিমায়।   কিন্তু মানুষ লোভ, হিংস্বা, ক্ষমতার মোহ,অশুভ প্রতিযোগী তায় মেতে উঠে।  যেই  প্রকৃতি মায়ের কোলে পরম আদর স্নেহে বেড়ে উঠেছে তাকেই অবলীলায়  ধ্বংসের খেলায় মেতেছে। পরম নির্ভরাতার আশ্রয় প্রকৃতিকে দার করিয়ে দিয়েছে মানুষ এবং মানব সভ্যতার বিপরীতে।  তাই একের পর এক বিপদের আশঙ্কা ভূপৃষ্টের কাঁধের উপর নি;শ্বাস ফেলছে।  ‘গ্রিন  হাউজ ইফেক্ট ‘ সূর্যের লক ডাউন ‘ অর্থাৎ সূর্য শীতল হয়ে আসা, অদৃশ্য মানব ভাইরাস ‘কোভিড-১৯, পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রে ফাটল সৃষ্টি, একের পর এক গ্রহাণু’র ছুটে আসা। তারপর মহামারী, টর্ণেডু,ঝড়, জলোচ্ছাস, ভূমিকম্প, সুনামী, দাবানল এমনি হাজারো প্রাকৃতিক বিপদ মানব সভ্যতার হুমকি হয়ে দাড়িয়েছে। মানুষই প্রকৃতি ধ্বংস করে প্রকৃতির রুদ্রু-রোষে পতিত হচ্ছে। বিধাতার অভিশাপে একের পর  প্রকৃতির প্রতিহিংসার সম্মুখিন হচ্ছে মানব সভ্যতা। প্রকৃতি ও মহাকাশ নিয়ে যারা  গবেষণা করে থাকেন তাদের ভাষায় বিভিন্ন আলামত দেখে স্পষ্ট হয়ে উঠছে পৃথিবীতে মহাজাগতিক শক্তির আবির্ভাব ঘটতে যাচ্ছে। তার অর্থ দাড়ায় পরবর্তী ঘটনায় মানুষ অসহায় হয়ে উঠবে। এর অর্থ বিশাল ও ব্যাপক।  ২১ আগস্ট ২০২০ খৃস্টাব্দ ‘নাসা’ শোনাল এক ভয়াবহ বিপদের কথা। তারা জানিয়েছেন পৃথিবীর চুম্বক ক্ষেত্রে ফাটল বৃদ্ধি ফাটল সৃষ্টি হয়েছিল আরো আগেই। এই ফাটল দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ‘নাসা’র ভাষ্য মতে পৃথিবীর চুম্বক ক্ষেত্রের একটি ফাটল ভেঙ্গে দু’টুকরো হয়ে গেছে। এর ফলে ব্যাহত হতে পারে টেলিযোগাযোগ,বিদুৎ সংযোগ ও নেভিগেশন ব্যবস্থা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাকাশ সংস্থা ‘ন্যাশনাল এরোলটিক্স অ্যান্ড স্পেস এন্ড মিনিস্ট্রেশনের রিপোর্ট অনুযায়ী পৃথিবীকে ঘিরে আছে এই  চুম্বকীয় স্তর সেটাই এখন বিপদের মুখে।  ভূপৃষ্টকে ঘিরে থাকা এই ম্যাগনেটিক ফিল্ডই সৌর রশ্মির দাবদাহ থেকে পৃথিবীর প্রণীকুলকে রক্ষা করে। এছাড়াও এর উপর পৃথিবীর বায়ুস্তরের পরিবর্তন ও অনেকাংশে নির্ভরশীল।  সাউথ আতলান্তিকে অ্যানোমলি বা “এস এস এ” নামের ভৌগলিক এই স্তরে বিশাল ফাটলের কারণে সময়ের সাথে সাথে দুই ভাগে ভাগ হয়ে যাচ্ছে। এই ম্যাগনেটিক ফিল্ডের ফাটল আরও  বড় হয়ে গিয়েছে। একটা ফাটল ভেঙ্গে দু’টুকরো হয়ে গেছে, ফলে এই পার্থিব সভ্যতাকে ভয়ঙ্কর সৌরকণা,সৌর বিকিরণ ও মহা-জাগতিক রশ্মির ছোবল সামলাতে হবে।  ভয়াবহ বিপদের খবরটি হলো, বিভিন্ন সময় নানা নামে উল্কা খন্ড পৃথিবীর দিকে ছুটে আসতে দেখা গেছে।  মহাকাশ গবেষক গণ তার বিপদ কিংবা আশঙ্কার কথা আগে ভাগেই পৃথিবীর মানুষকে জানিয়ে সতর্ক করেন।  কিন্তু ২০২০ খৃস্টাব্দের ১৬ আগস্ট “কিউজি’ নামের একটি উল্কা খন্ড পৃথিবীর একেবারে পাশ ঘেসে চলে গেলেও চলে যাওয়ার পূর্ব মুহুর্তেও দেখতে পায়নি গবেষণা রত পর্যবেক্ষকগণ।

এরি মধ্যে বেশ বড় সড় আরো একটি দু:সংবাদ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ‘নাসা’র গবেষকেরা। তাদের মতে, এবার লক ডাউনে চলে গেছে সূর্য। আর এর কারণে শীতল হয়ে আসছে সূর্য।

সূর্যের লকডাউনের ফলে বিশ্বের তাপমাত্রা কমে যাবে, শীতল হয়ে উঠবে পৃথিবী। যে কারণে,  বিশ্বজুড়ে ভূমিকম্প ও দুর্ভিক্ষের মতো ভয়ংকর দুর্যোগ দেখা দিতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

এ বিষয়ে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সূর্য বর্তমানে ‘সোলার মিনিমাম’ পরিস্থিতিতে রয়েছে ‘, ফলে পৃথিবীতে সূর্যের স্বাভাবিক পর্যায়ে সরবরাহ করা তাপমাত্রা  অনেক কমে গেছে। পৃথিবীর প্রতি সূর্যের কার্যকলাপ নাটকীয়ভাবে হ্রাস পেয়েছে।

বিশ্বখ্যাত জোতির্বিঙ্ঘানী ড.টনি ফিলিপস বলেন,আমরা গভীরতম সময়ের ভিতরে প্রবেশ করতে যাচ্ছি, যে সময়ে সূর্যের আলো কার্যত অদৃশ্য হয়ে যাবে। সূর্যের ‘সোলার মিনিমাম’ চলছে,এটি অত্যন্ত গভীর। সান স্পট গণনা থেকে দেখা যাচ্ছে, এটি বিগত শতাব্দীর সবচেয়ে গভীরতম অবস্থানে রয়েছে। সূর্যের চৌম্বকীয় শক্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে। এর মানে হলো সৌর জগতে অতিরিক্ত মহাজাগতিক শক্তির প্রবেশের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ‘টনি ফিলিপস’ আরো বলেন,সৌরজগতে অতিরিক্ত মহাজাগতিক রশ্মি প্রবেশ করলে নভোচারী ও মেরু অঞ্চলের জন্য তা হবে বিপজ্জনক। এ ছাড়া এটি পৃথিবীর ওপরের বায়ুমন্ডলের বৈদ্যুতিক রসায়নকে প্রভাবিত করে তাহলে ভূ-পৃষ্টে বজ্রপাত বাড়াবে।

সূর্যের এই লকডাউনে যাওয়ার ঘটনায় ‘ডাল্টন মিনিমাম’ এর পুনরাবৃত্তি হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন ‘নাসা’র’ গবেষকরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরও খবর
Theme Customized By Theme Park BD
x
%d bloggers like this:
x
%d bloggers like this: