বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:২৮ অপরাহ্ন

মাদারীপুরে এসিড পুুশ করে স্ত্রী হত্যা

এখনই সময় ডেস্ক / ১৪
আপডেট : শনিবার, ২৪ জুলাই, ২০২১, ২:৫৯ অপরাহ্ণ

মাদারীপুর প্রতিনিধি :
মাদারীপুরে এবার ঈদ আনন্দ নেই স্বামীর হাতে নিহত গৃহবধু রোজিনার পরিবারের মাঝে। যৌতুক না পাওয়ায় ভ্যাটারির এসিড সিরিঞ্জের মাধ্যমে শরীরে পুশ করে রোজিনাকে হত্যা স্বামী নুর হোসেন। রোজিনার মৃত্যুতে পুরো এলাকাজুড়ে এখন শোকাবহ পরিবেশ। এই ঘটনায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। পুলিশ বলছে, প্রধান অভিযুক্ত নুর হোসেন গ্রেফতারের পর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
স্বজনরা জানায়, দুই বছর আগে মাদারীপুর সদর উপজেলার খালাসিকান্দি গ্রামের নুরুল ইসলাম মুন্সীর মেয়ে রোজিনার ইসলামের সাথে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় দুধখালী গ্রামের লিয়াকত হোসেন খানের ছেলে নুর হোসেনের। এরপর পরই নুর ও তার পরিবারের লোকজন যৌতুক দাবী করে। এতে অস্বীকৃতি জানালে শুরু হয় রোজিনার উপর নির্যাতন। গত ১৫ জুলাই রাতে ঘরের ভেতরে থাকা ভ্যাটারিতে ব্যবহৃত এসিড সিরিঞ্জের মাধ্যমে রোজিনার শরীরের প্রয়োগ করে নুরু হোসেন এমন অভিযোগ পরিবারের। পরদিন মাদারীপুর সদর হাসপাতালে রোজিনাকে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে পাঠানো হয় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে শনিবার রাত ৮টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার রাতে মারা যায় রোজিনা। বোনের মৃত্যুতে তার বড়ভাই নাসির উদ্দিন মুন্সী বাদী হয়ে সোমবার রাতে সদর মডেল থানায় নুর হোসেনকে প্রধান করে ৬জনের নামে মামলা করেন।
এলাকাবাসী জানায়, প্রতিবছর যেখানে ঈদের দিন পাড়াপ্রতিবেশিদের সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়াসহ নানা কাজে ব্যস্ত থাকতো পরিবারের লোকজন, সেখানে এবার শোকাবহ পরিবেশ। রোজিনার অকাল মৃত্যুতে ঈদের কোন আমেজ নেই পরিবারের মাঝে। এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানিয়েছে স্বজন ও এলাকাবাসী।
স্থানীয় হিনু মুন্সী বলেন, নিহত রোজিনার ১১ মাস বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে। এই মেয়েটির দায়ভার কে বহন করবে। সরকারের উচিৎ নিহতের ঘটনায় জড়িত সবার বিচার করা ও রোজিনার মেয়েটির পাশে দাঁড়ানো।
রোজিনার বড়ভাই নাসির উদ্দিন মুন্সী বলেন, বার বার যৌতুক দাবি করকো নুর ও তার পরিবার। যৌতুক না দেয়ার কারনেই পরিকল্পিতভাবেই রোজিনার শরীরে এসিড প্রয়োগ করে হত্যা করা হয়। এই ঘটনার কঠোর বিচার দাবি করছি।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) চৌধুরী রেজাউল করিম জানান, মামলার পরে প্রধান অভিযুক্ত নুর হোসেন খানকে সদর উপজেলার দুখখালী নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে গ্রেফতার প্রধান অভিযুক্ত সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফয়সাল আল মামুনের আদালতের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলে নুর হোসেনকে কারাগারে পাঠানো হয়। বাকি আসামীদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরও খবর
Theme Customized By Theme Park BD
x
%d bloggers like this:
x
%d bloggers like this: