শনিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২১, ১০:৫৪ পূর্বাহ্ন

গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলী আনোয়ার জাহিদ

এখনই সময় ডেস্ক / ৪১
আপডেট : শুক্রবার, ১৩ আগস্ট, ২০২১, ১০:৩০ পূর্বাহ্ণ

 

 

এম,আব্দুল্লাহ  আনোয়ার জাহিদকে নতুন প্রজন্ম রাজনীতিক ও বড়জোর সাবেক তথ্য মন্ত্রী হিসেবে চিনেন। কিন্তু তিনি কত বড় মাপের সাংবাদিক ছিলেন, সেটা কি জানেন তরুণ প্রজন্মের সংবাদিক বন্ধুরা? বোধকরি কমই জানেন।

সাংবাদিক নেতা হিসেবে তাঁর স্বকীয় বৈশিষ্ট্য ও নিরাপস বলিষ্ঠ ভূমিকাও আজ বিস্মৃতির অতলে। অথচ অবিভক্ত ডিইউজের সভাপতি হিসেবে সাংবাদিকদের ট্রেড ইউনিয়ন নেতৃত্বের মডেল হতে পারেন তিনি। সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত থেকেও কিভাবে সাংবাদিক ইউনিয়নে পুরোপুরি দলনিরপেক্ষ পেশাদারিত্ব বজায় রাখা যায় তা দেখিয়ে গেছেন প্রিয় অগ্রজ।

আনোয়ার জাহিদ সাংবাদিকতা পেশায় সর্বশেষ দৈনিক ইনকিলাবের উপদেষ্টা সম্পাদক ছিলেন। সেখানে তাঁর ঘনিষ্ট সান্নিধ্য পাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে আমার। দেখেছি তাঁর জ্ঞানের গভীরতা। তিনি নামকাওয়াস্তে উপদেষ্টা সম্পাদক ছিলেন না। বিকেলে রিপোর্টিং সভায় তিনি নির্দেশনা দিতেন। রিপোর্টের চমৎকার আইডিয়া পাওয়া যেত তাঁর কাছ থেকে। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার দীক্ষা দিয়েছেন। আড্ডাও জমতো বেশ।

তিনি সর্বশেষ পূর্ণকালীন সাংবাদিক ছিলেন সরকারী মালিকানাধীন ট্রাস্টের ইংরেজি দৈনিক বাংলাদেশ টাইমস এর নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে (১৯৮৫)। তারও আগে ১৯৫৭ সালে দৈনিক ইত্তেহাদ-এ সহকারী সম্পাদক হিসেবে পেশায় নিবেদিত ছিলেন। ১৯৫৮ সালে অর্ধ-সাপ্তাহিক ধূমকেতুর সহকারী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

১৯৫৯ থেকে ১৯৬৩ সাল পর্যন্ত দৈনিক সংবাদের প্রথমে চীফ রিপোর্টার ও পরে সহকারী সম্পাদক ছিলেন। পরে চলে যান দৈনিক ইত্তেফাকে। ‘৬৩ থেকে ‘৬৫ সাল পর্যন্ত ইত্তেফাকের সহকারী সম্পাদকের পাশাপাশি সাপ্তাহিক জনতার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৫ থেকে ‘৬৬ সালে প্রভাবশালী ইংরেজি সাপ্তাহিক হলিউডে’র ডেপুটি ম্যানেজিং এডিটর ছিলেন।

এর পর যোগ দেন সান্ধ্য দৈনিক ‘আওয়াজ’ এর সম্পাদক হিসেবে। ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করে ‘৭০ সালে সাপ্তাহিক গণবাংলার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হন। এর পর ১৯৭২ সালে যোগ দেন তৎকালীন জনপ্রিয় ইংরেজি দৈনিক দ্য পিপল – এর বার্তা সম্পাদক হিসেবে। ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭৭ থেকে ‘৭৯ এবং ১৯৮১ থেকে ‘৮৩ পর্যন্ত আনোয়ার জাহিদ ঐক্যবদ্ধ ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে’র) নির্বাচিত সভাপতি হিসেবে সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। আনোয়ার জাহিদের সঙ্গে ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন ইকবাল সোবহান চৌধুরী। দুই প্যানেল থেকে দুই মতাদর্শের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এক সঙ্গে কাজ করতে কোন সমস্যা হয়নি। ইউনিয়নের সেই দিনগুলো ছিল সত্যি গৌরবোজ্জ্বল। পরে ১৯৮৫ থেকে ‘৮৮ সাল পর্যন্ত তিনি তথ্য মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

বিচক্ষণ ও দূরদর্শী রাজনীতিক, মেধাবী সাংবাদিক, সাবেকমন্ত্রী আনোয়ার জাহিদের ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০০৮ সালের এই দিনে তিনি ইন্তেকাল করেন।

আনোয়ার জাহিদ ছাত্রজীবনে নিখিল পূর্ব-পাকিস্তান ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। তিনি ছাত্রলীগের ঝিনাইদহ মহকুমার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৫২’র ভাষা আন্দোলনে ঝিনাইদহে ছাত্রআন্দোলন গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

১৯৮৬ সালে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং এরশাদের শাসনামলে মন্ত্রী ছিলেন। ১৯৮৯ সালে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি এনডিপি গঠন করেন। ১৯৯৬-২০০১ পর্যন্ত বিএনপি চেয়ারপার্সনের তথ্য উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন এবং প্রথমে ৭ দলীয় ও পরে ৪ দলীয় জোট গঠনে মূল আর্কিটেক্ট হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

আজকের দিনে তাঁর রূহের মাগফিরাত কসমনা করছি। ভুলত্রুটি ক্ষমা করে ভাল কাজগুলোর উত্তম প্রতিদান দিন। আল্লাহ তাঁকে জান্নাতবাসী করুন।

 

এখনই সময়। 

 


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরও খবর
Theme Customized By Theme Park BD
x
%d bloggers like this:
x
%d bloggers like this: