শনিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২১, ১১:০৯ পূর্বাহ্ন

প্রথম পর্ব : মেঘনার ৬০কিলোমিটার জুড়ে বালুখেকো মিজানের সাম্রাজ্য

এখনই সময় ডেস্ক / ১১৭
আপডেট : শনিবার, ১৪ আগস্ট, ২০২১, ১০:০৫ পূর্বাহ্ণ

 

 

বিশেষ প্রতিনিধি , প্রথম পর্ব

 

এখনই সময় : চাঁদপুরে মেঘনা নদীতে প্রায় এক যুগ ধরে ইজারা প্রক্রিয়া বন্ধ থাকায় প্রতি বছর সরকার শত শত কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে। হাইকোর্টের রীটের কারণে স্থানীয় প্রশাসন বালুমহালগুলো ইজারা দিতে পারছে না। কিন্তু বালু উত্তোলন কী বন্ধ রয়েছে? মোটেও না। তাহলে এই বালু উত্তোলনের টাকা যাচ্ছে কোথায়? সবকিছু লুটে নিচ্ছে কাজী মিজান নামের এক রাঘব বোয়াল। তিনি প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে সাংবাদিক, মাস্তান সন্ত্রাসীদের ম্যানেজ করার মাধ্যমে প্রতিবছর বালু দুর্বৃত্তপনার মাধ্যমে হাজার কোটি টাকা কামিয়ে নিচ্ছে বলে সুনির্দ্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। আর অবৈধ এ লুটপাটের টাকায় যুবদল ক্যাডার কাজী মিজান এখন সরকারী দল, এমপি, মন্ত্রীকে পর্যন্ত আজ্ঞাবহ করে রাখছে। টু শব্দটি করারও জো নেই সেখানে। সাবেক মন্ত্রী, আওয়ামীলীগের ডাকসাইটে নেতা মায়া চৌধুরী পর্যন্ত তার বালু দুর্বত্তপনার বিরুদ্ধে কথা বলে টিকতে পারছেন না। কাজী মিজানের বেতনভুক্ত কর্মচারীরা আওয়ামীলীগের ব্যানারে মায়া চৌধুরীর কর্মি সমর্থকদের উপর হামলা চালাচ্ছে, বাড়িঘর ভেঙ্গে তছনছ করে দিচ্ছে। একের পর এক মামলা দিয়ে কর্মি সমর্থকদের হয়রানি করছে, এলাকাছাড়া হতে বাধ্য করছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বালুমহাল ইজারা হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ করিয়ে একটি চক্র বছরের পর বছর সরকারকে রাজস্ব বঞ্চিত করছে। ওই চক্র চাঁদপুরের মেঘনা নদীর ৬০ কিলোমিটার নদী এলাকার নানা স্থানে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। এতে করে শহর রক্ষা বাঁধ রয়েছে হুমকির মুখে। পাশাপাশি নদী কিনারার বিস্তীর্ণ এলাকা বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা। যেখানে বৈধভাবে বালুমহাল ইজারার মাধ্যমে সরকার প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা রাজস্ব পেতো। সেই প্রক্রিয়ায় নেই বালুমহাল ইজারা ও নেই রাজস্ব আদায়ও। অনুসন্ধানী তথ্যে জানা যায়, সর্বশেষ ২০০৮ সালের ১০ই ফেব্রুয়ারী ১৯৩ নং স্মারকে চাঁদপুর বালু মহালের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিলো। পত্রিকায় সেই বিজ্ঞপ্তিও ছাপা হয়। কিন্তু জনৈক রফিক খান হাইকোর্ট বিভাগে এই ইজারা বিজ্ঞপ্তির বিরুদ্ধে ঐ বছরই মিথ্যা তথ্য দিয়ে ১৭৯১/২০০৮ নং রীট মামলা দায়ের করেন বলে জানা গেছে। ওই মামলায় ইজারা কার্যক্রমের উপর আদালত স্থগিতাদেশ দেয়া হয়। একই পন্থায় চাঁদপুরের আরো ৬টি বালুমহালের ইজারার বিরুদ্ধেও একই কায়দায় রীট করে বৈধ বালু মহাল ইজারা প্রথাকে স্থগিত করানো হয়।

খোঁজ-খবর নিয়ে জানা যায়, জেলা প্রশাসনের থেকে বালুমহাল ইজারা বন্ধ রয়েছে প্রায় এক যুগ। অথছ মেঘনার বিভিন্ন স্থান থেকে অপরিকল্পিতভাবে প্রতিনিয়ত বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। আর এই বালু উত্তোলনের টাকা সরকার রাজস্ব পাচ্ছে না। তারা হাইকোর্টের রীটের কারণেই দেশের খনিজ সম্পদ মেঘনা নদীর আস্তর বালু (যা নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত হয়) উত্তোলন ও চড়া দামে বিক্রি করছে। আর ব্যক্তি পর্যায়ে কতিপয় লোক তা থেকে বিপুল পরিমান অর্থ হাতিয়ে নিয়ে ‘আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ বনে গেছে’।
হাইকোর্টের আদেশে এই বালু কাটা হয় বলে বালু দস্যুরা বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত কে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য পর্যন্ত অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের জিজ্ঞেসা, ‘আর কত দিন হাইকোর্টের এই রীট দেখিয়ে সরকারকে রাজস্ব বঞ্চিত করে ব্যক্তি বিশেষ টাকা হাতিয়ে নিবে? আর কত দিনই বা ইজারাবিহীন অবৈধ বালু কাটা চলতে থাকবে? সরজমিনে দেখা যায়,গত ২/৩ বছর যাবৎ চাঁদপুর সদর উপজেলার রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের লগ্গীমারা নামক মেঘনা নদীর স্থানে আনুমানিক ৫০/৬০ টি ড্রেজার রাতদিন ২৪ ঘন্টা বালু উত্তোলন করে দেধারছে বিক্রি করা হচ্ছে। আর ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ওই এলাকায় বালু উত্তোলনে বালুবাহী বাল্ক হেডের সিরিয়াল।প্রতিটি বাল্কহেড আয়তন হিসেবে ১০ থেকে ২০/২৫ হাজার বা তারো বেশি টাকার বালু বিক্রি করে টাকা আদায় করছে।এভাবে প্রতিনিয়তই কোটি টাকার বালু উত্তোলন করে বিক্রি করা হয় বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়।
অনুসন্ধানী এক তথ্যে আরো জানা যায়, এখানকার এই বালু উত্তোলনকারী দস্যুরা এর আগে হাইমচরে এবং হরিণা এলাকাতেও বছরের পর বছর বালু উত্তোলন করে বিক্রি করেছিলো। তারা নদীতে বিচরণ করে চাঁদপুর নৌ সীমানায় যেখানে আস্তর বালু পাচ্ছে। সেখান থেকেই নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে সরকার দলের প্রভাব খাটিয়ে বালু কেটে বিক্রি করে যাচ্ছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় প্রশাসন বিভিন্ন সময় এদের বিরুদ্ধে অভিযান করে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেছে। যার মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে ২০১৭ সালে মোট ১০ লক্ষ ৫ হাজার টাকা, ২০১৮ সালে মোট ৪ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা অর্থদন্ড সহ ৬ আসামীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড প্রদান করা হয়।
এছাড়াও ২০১৯ সনে ১৫ হাজার টাকা অর্থদন্ড এবং ১৭ জন আসামীকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করা হয়েছে। —— চলবে

 

 


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরও খবর
Theme Customized By Theme Park BD
x
%d bloggers like this:
x
%d bloggers like this: