সোমবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২২, ১২:১০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

বিপুল পরিমান গার্মেন্টস সামগ্রীসহ দুটি কাভারভ্যান আটক।

এখনই সময় ডেস্ক / ১০৮
আপডেট : শনিবার, ১৪ আগস্ট, ২০২১, ১২:০২ অপরাহ্ণ

 

 

এখনই সময় : নারায়নগঞ্জ জেলার বন্দর থানাধীন এলাকা হতে প্রায় ০৬ কোটি টাকা মূল্যের চোরাইকৃত গার্মেন্টস মালামাল সহ সংঘবদ্ধ আন্তঃ জেলা চোরচক্রের ৬ সদস্য’কে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব- । বিপুল পরিমাণ গার্মেন্টস সামগ্রী, ২ টি কাভার্ড ভ্যান ও ১ টি প্রাইভেটকার জব্দ।

র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন, র‌্যাব এলিট ফোর্স হিসেবে আত্মপ্রকাশের সূচনালগ্ন থেকেই বিভিন্ন ধরনের অপরাধ নির্মূলের লক্ষ্যে অত্যন্ত আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও সফলতার সাথে কাজ করে আসছে। সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ নির্মূল ও মাদকবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি খুন, চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও ছিনতাই চক্রের সাথে জড়িত বিভিন্ন সংঘবদ্ধ ও সক্রিয় সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যদের গ্রেফতার করে সাধারণ জনগণের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে র‌্যাবের জোরালো তৎপরতা অব্যাহত আছে।

সম্প্রতি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় যে, রাজধানী ঢাকা ও গাজীপুর থেকে গার্মেন্টস মালামাল বিভিন্ন দেশে রপ্তানী করার উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের নেওয়ার পথে কিছু কিছু কাভার্ড ভ্যান হতে প্রায় ৩৫-৪০% দামী গার্মেন্টস মালামাল উধাও হয়ে যাচ্ছে। উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৪ উক্ত চোরাকারবারীদের চিহ্নিত করার লক্ষ্যে ছায়া তদন্ত শুরু করে। দীর্ঘদিন ধরে ছায়াতদন্ত এবং স্থানীয় সোর্সের সহায়তায় সংঘবদ্ধ এ দলকে অনুসরণ করে জানা যায়, ফ্যাক্টরী থেকে মালামাল নেওয়ার সময় পথিমধ্যে নারায়নগঞ্জ জেলার বন্দর থানার একটি পরিত্যাক্ত রি-রোলিং মিলস্ এ কাভার্ড ভ্যান থামিয়ে সংঘবদ্ধ ০১ টি চোরচক্র কাভার্ড ভ্যানের তালা না খুলে বিশেষ প্রক্রিয়ায় প্রায় ৩৫-৪০% মালামাল চুরি করছে।

উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল র‌্যাব-৪ এর একটি আভিযানিক দল নারায়নগঞ্জ জেলার বন্দর থানাধীন তালতলা, ধামগড় এলাকাস্থ উক্ত রি-রোলিং মিলস লিঃ এর ভিতর অভিযান পরিচালনা করে আনুমানিক ০৬ কোটি টাকা মূল্যের চোরাইকৃত ৪১ বস্তা ও ৫০৬ কার্টুন ভর্তি গার্মেন্টস সামগ্রী, নগদ-৮২,০০০/- টাকা, মালামাল পরিবহনে ব্যবহৃত ০২ টি কাভার্ড ভ্যান, ০১ টি প্রাইভেটকার এবং ১০ টি মোবাইলসহ সংঘবদ্ধ আন্তঃ জেলা চোরচক্রের ০৬ জন সদস্য’কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

উদ্ধারকৃত গার্মেন্টস মালামাল সমূহ সংশ্লিষ্ট পোশাক প্রস্তুতকারী সংস্থার কর্তৃপক্ষ সনাক্ত করে। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিবর্গের বিবরণ নিম্মরুপঃ

সিরাজুল ইসলাম (২৭), জেলা-বরিশাল
মোঃ জহির (৪০), জেলা-ভোলা
মোঃ জনি (২৪), জেলা- জয়পুরহাট
মোঃ জমির খান (৪০), জেলা-রাজবাড়ী
মোঃ নুর জামান (৫৮), জেলা-শরিয়তপুর
মোঃ তাবারক হোসেন (৩৯), জেলা-নারায়নগঞ্জ

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামীরা পরস্পর যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা ও গাজীপুর থেকে বিভিন্ন দেশে রপ্তানীর গার্মেন্টস মালামাল চুরির ঘটনার সাথে জড়িত মর্মে স্বীকারোক্তি প্রদান করেছে। জিজ্ঞাসাবাদে আরো জানা যায় যে, তারা মালামাল পরিবহনে নিয়োজিত চালকদের সাথে সংঘবদ্ধ একটি চোরাকারবারী চক্র।

ধৃত দুর্ধর্ষ চক্রটি পরস্পর যোগসাজোশে বিগত কয়েক বছর ধরে গার্মেন্টস মালামাল কাভার্ড ভ্যান হতে বিশেষ প্রক্রিয়া চুরি করে স্থানীয় মার্কেটে চোরাইপথে কমদামে চুরিকৃত মালামাল বিক্রি করে আসছিলো। এতে করে দেশ প্রচুর পরিমান রাজস্ব থেকে বঞ্চিত ও গার্মেন্টস মালিকগণ প্রতিনিয়ত ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে আসছিলেন।

প্রাথমিকভাবে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী এ ধরনের কয়েকটি চক্র ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সক্রিয় রয়েছে এবং প্রতি বছর শত কোটি টাকা মূল্যের বেশী পোশাক এসব চক্রের মাধ্যমে চুরি হয়ে যাচ্ছে।

চুরির কৌশলঃ এই চোরচক্রটি সাধারণত কাভার্ড ভ্যানের ড্রাইভারের সাথে সখ্যতা গড়ে বিভিন্ন প্রকার লোভ দেখিয়ে চুরির মালামাল বিক্রয়ের টাকার অংশ দেওয়ার কথা বলে ড্রাইভারকে রাজি করিয়ে নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর এলাকা হতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নিকটবর্তী নির্জন এলাকার ভিতর কাভার্ড ভ্যান পার্কিং করাতো। পরবর্তীতে পলাতক মূলহোতা হিমেলের নির্দেশে গ্রেফতারকৃত সিরাজুল, মিস্ত্রি জনি, নিরাপত্তারক্ষী জমির ও নুর জামান, সিরাজুলের ড্রাইভার জহির, তবারক এবং পলাতক কেয়ারটেকার শহিদুলসহ অন্যন্য সহযোগীরা মিলে বিশেষ কৌশলে কাভার্ড ভ্যানের সিলগালা তালা না খুলে কাভার্ড ভ্যানের পাশের ওয়ালের নাট-বল্টু খুলে প্রত্যেক কার্টুন/বস্তার ভিতরে থাকা মালামালের ৩৫-৪০% মালামাল নিয়ে পূর্বের ন্যায় কার্টুন/বস্তা সঠিকভাবে বাধাই করে তাদের কাভার্ড ভ্যানে নিয়ে যেত যাতে করে ফ্যাক্টরী মালিক ও বন্দর কর্তৃপক্ষ কেউই সন্দেহ না করতে পারে। এছাড়াও মালামালসহ সম্পূর্ণ ট্রাক/কাভার্ড ভ্যানও মাঝে মাঝে তারা লুট করেছে।

 

 


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরও খবর
Theme Customized By Theme Park BD
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: