বৃহস্পতিবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২২, ০৮:১৪ পূর্বাহ্ন

কাস্মির আজও পরাধীন,বাংলাদেশ হলো স্বাধীন,কেনো ?

টি এম তুহিন,এখনই সময় ডেস্ক: / ১০৫
আপডেট : রবিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২১, ৭:৪৯ অপরাহ্ণ

১৯৪৭ সালের ২০শে জুন পূর্ব বাংলার মুসলমানরা জিন্নার আহবান অগ্রাহ্য করে যদি পাকিস্তানে যােগ না দিয়ে ভারতে যােগ দিতেন এবং তারপর দশ-বিশ বছর বাদে যে-কারণে পাকিস্তান হতে বিচ্ছিন্ন হতে চাইলেন অর্থাৎ ভাষা পার্থক্যের জন্য ভারতবর্ষ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীনতা লাভ করতে চাইলে কি অবস্থা দাঁড়াতো আশা করি বর্তমান কাশ্মীরের অবস্থা থেকে বুঝতে পারছেন। প্রায় একই কারণে শেখ আবদুল্লাকে কত বছর কারাগারে থাকতে হয়েছিল, নিশ্চয়ই সেকথা কেউ ভােলেননি আর নতুন প্রজন্ম গুগল ভাইয়ার সাহায্য নিয়ে জেনে নিতে পারেন। পাকিস্তানে স্বেচ্ছায় যােগ দিয়ে তারপর পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হবার দাবি জানালে পাকিস্তান তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানে যে অত্যাচার করেছিলো ভারতবর্ষে স্বেচ্ছায় যােগ দিয়ে তারপর ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন হবার দাবি জানালে ভারতবর্ষ পূর্ব বাংলায় পাকিস্তানের চেয়ে কয়েক হাজারগুণ বেশী অত্যাচার করতাে। ভারত মিজো-নাগাদের উপর যে অত্যাচার করেছিল পৃথিবীর লােক কোনােদিন সে সংবাদ জানতে পারেনি, পারবেনা। ভারতের মত দেশের সংগে লড়াই করবার জন্য পাকিস্তান বা পৃথিবীর কোনাে দেশের কার্যকরী সাহায্য পূর্ব বাংলার লােকেরা পেতেন না। ভাগ্যবশত পূর্ব বাংলা পাকিস্তানে যােগ দিয়েছিল, তাই খুব সহজেই স্বাধীন হতে পারলাে, না হলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দূর অস্ত হয়ে থাকতাে। সেইজন্যই বললাম, পূর্ব বাংলার মুসলমানরা মুহাম্মদ আলি জিন্নার ডাকে সাড়া দিয়ে পাকিস্তানে যােগ দিয়েছিল বলেই সহজে স্বাধীন হতে পেরেছে। ১৯৪০-এ লাহােরে পাকিস্তান প্রস্তাবে জিন্না একাধিক মুসলমান-রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্নই দেখেছিলেন।

বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে পাকিস্তান স্বাধীন হয়েছিল বলেই। বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জিন্নাহ হল নাম বাদ দিয়ে মাস্টারদা সূর্যসেন হল বানানো হলো অথচ জিন্নাহ সাহেব ইন্তেকাল করেছেন ১৯৪৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১ সালে জিন্নাহ সাহেবের কোন নেতিবাচক অথবা ইতিবাচক কোন ভূমিকাই ছিলনা। অথচ ১৯০ বছর শোষণকারী বৃটিশ রাণী ভিক্টোরিয়ার নামে বাংলাদেশে অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখনও আছে। আমরা কত সহজে ভুলে যাচ্ছি শোষকদের। হিন্দু জমিদারদের বাড়ীর সামনে দিয়ে কোন মুসলমান জুতা পায়ে দিয়ে যেতে পারতো না, ছাতা মাথার উপরে রেখে যেতে পারতো না।

আরেকটা ঘটনা ঘটে গেছে আল্লামা ইকবাল সাহেবকে নিয়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আল্লামা ইকবাল হলের নাম পরিবর্তন করে সার্জেন্ট জহুরুল হক হল নামকরণ করা হলো। আল্লামা ইকবাল ইন্তেকাল করেছেন ১৯৩৮ সালের ২১ এপ্রিল, কত ইতিহাস পড়লাম কিন্তু এই মৃত ব্যাক্তিটার প্রতি বাংলাদশে প্রতিহিংসার কারনটা খুঁজে পেলাম না। জিন্নাহ এবং আল্লামা ইকবালের প্রতি প্রতিহিংসার কারন হলো ভারতের প্রেসক্রিপশন এবং ওনারা মুসলমান ছিলেন।
পাকিস্তনের আসল ষড়যন্ত্রকারী ভুট্টোকে স্বাধীন বাংলাদেশে লালগালিচা সংবর্ধনা দেয়া হয়েছিল। আর যে পাকিস্তান সৃষ্টি না হলে কোনদিন বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রশ্নই আসতো না, সেই পাকিস্তান সৃষ্টির কারিগরদের আমরা ঘৃণা করছি। আমাদের উচিত ইতিহাসের মূল্যায়ন করে পাকিস্তানের স্বাধীনতাকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে বিবেচনা করা।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরও খবর
Theme Customized By Theme Park BD
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: