সোমবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২২, ১২:৩০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

হামলা মামলাসহ নানামূখী হয়রানীই হচ্ছে একজন সাংবাদিকের অলংকার

সাইদুর রহমান রিমন, এখনই সময় ডেস্ক / ৯৬
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৯ আগস্ট, ২০২১, ৮:০২ পূর্বাহ্ণ

 

  • হুমকি, হামলা, মামলাসহ নানামুখী হয়রানি হচ্ছে একজন পেশাদার সাংবাদিকের অলঙ্কার। আমৃত্যু সাদামাটা জীবন ধারনকারী সংবাদ কর্মিদের সদা সর্বদা পোশাক পরিচ্ছদে ফিটফাট হয়ে চলার উপায় নেই।

মাঠ পর্যায়ে নানা ঘটন অঘটনে যখন তখন যত্রতত্র হাজির হওয়া মানুষটির নিজের পোশাক পরিচ্ছদের প্রতি বিশেষ নজরদারির সুযোগই থাকে না? সেখানে অলঙ্কারাদি নিয়ে ভাবনার সুযোগ কই? তাই চারপাশের সমাজবিরোধী, দুর্বৃত্ত, লুটেরাচক্র যখন সাংবাদিকদের উপর হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত করে তখন মনে হয় উচ্ছ্বাস আনন্দের রঙ মেখে দেয়া হয়েছে।

যখন নানারকম মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয় তখন মনে ক্লান্তিহীন জীবনে জেলবন্দী করে হলেও কিছুটা আয়েশে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। আর হুমকি? শুরুতেই হুমকিদাতাকে পরম বন্ধু ভেবে নিলেই আর কষ্ট থাকার কথা ন॥ ভেবে দেখুন তো, মায়ের পরে হুমকিদাতাই শুধু মমত্ববোধের পরিচয় দিয়ে থাকেন আগাম সতর্কতার মাধ্যমে। আপনার চরম শত্রুটি আপনাকে সতর্ক হওয়ার বিন্দুমাত্র সুযোগ না দিয়েই ক্ষয়ক্ষতি সাধন করবে।

সেক্ষেত্রে হুমকিদাতা হুমকি দেয়ার মাধ্যমে আপনার জানমাল হেফাজতের জন্য আগাম সতর্ক করে কতটা মমত্ববোধের পরিচয় দেয় তা আন্তরিকতার সঙ্গে বিবেচনায় নেয়া হয় না বললেই চলে।

একটানা ৩২ বছরের সাংবাদিকতায় কত শত যে হুমকি পেয়েছি তার ইয়োত্তা নেই। বিনিময়ে পাল্টা হুমকিও দিয়েছি অসংখ্য, তবে তা মৌখিকভাবে নয়। হুমকিদাতার অপরাধ দুর্নীতির খবর ফলাও ভাবে প্রকাশ করে হুমকির জবাব দিয়েছি। কিন্তু ‘সাংবাদিক রিমন হুমকির শিকার’ কিংবা ‘সাংবাদিক রিমনকে হুমকি’ এমন সংবাদ ছাপতে চাইনি কখনও। কারণ, এ ধরনের সংবাদ প্রকাশ করলেই অপরাধী চক্রের জানা হয়ে যাবে যে, সাংবাদিক রিমনকে হুমকি দেয়া যায়।

ফলে আমার বিভিন্ন রিপোর্টে বিরাগভাজন অন্যান্য চক্রও এ খবর জেনে গেলে ধারাবাহিক হুমকি শুরু হতে পারে। বরং চক্রগুলো জানুক সাংবাদিক রিমন হুমকির উর্দ্ধে, তাকে হুমকি দেয়া যায় না। এবার আসি আরেক অলঙ্কার মামলার প্রসঙ্গে। সাংবাদিকতায় প্রবেশের আগে পরে আমার নামে অন্য কোনো বিষয় নিয়ে কোনো জিডি লিপিবদ্ধ করারও নজির নেই দেশে, অথচ সংবাদ ছাপায় দুর্বৃত্ত লুটেরাদের সম্মানহানি হয়েছে এইমর্মে ১৮টি মামলা হয়েছে আমার বিরুদ্ধে।

এসব মামলার যবনিকাপাতও ঘটেছে দারুণ সব আনন্দদায়ক ঘটনার মধ্য দিয়েই। যেমন আমার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরকারী ছয় জন বাদী আদালত প্রাঙ্গন থেকেই জনরোষের মুখে পালিয়ে নিজেদের জীবন রক্ষা করেছে, আর কখনো তারা আদালতমুখি হয়নি।

দুটি মামলায় হাজিরা দিতে গিয়ে আদালতের কাঠগড়াতেই বিশেষ ব্যবস্থায় দেয়া চেয়ারে বসে সম্মানীত বিচারকের ইচ্ছায় একাধিক সংবাদ সংগ্রহের কাহিনীর বর্ণনা দিতে হয়েছে। আদালত বললেন, আপনার রিপোর্ট পড়ি, এসব কাহিনী বের করেন কিভাবে দুই একটা কাহিনী শুনতে চাই। আমার সেসব কাহিনী বর্ণনাকালেই সম্মানীত বিচারককে বলতে শুনেছি : ‘সাইলেন্ট সাইলেন্ট…কোনো শব্দ হবে না এখন। যারা দেশ নিয়ে ভাবেন, দেশ ও মানুষের কল্যাণের জন্য কলম লড়াই করেন… সেই অকুতোভয়ী একজন সাংবাদিক আজ চট্টগ্রামের এই আদালতে উপস্থিত রয়েছেন।

দেশসেবী এই বীরদের মুখের কথা শোনাও আমাদের শিক্ষাদীক্ষা, দেশপ্রেমের অংশ।’
সেই কাঠগড়াতেই বসে বসে আমাকে বর্ণনা দিতে হয়েছে সুন্দরবনের কান্না শীর্ষক সিরিজ রিপোর্টের তথ্য সংগ্রহের বর্ণাঢ্য কাহিনী। বলতে হয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে শত শত কাঠ পাচারের আদ্যপ্রান্ত, উলফাদের সশস্ত্র ক্যম্প আবিস্কারের বিবরণ।

সবশেষে বিচারক আদালতের দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের বললেন, সাংবাদিক সাহেবকে স্বসম্মানে গাড়িতে তুলে দিয়ে আসুন, আর আমাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, আপনার মামলার পরবর্তী তারিখ ও করনীয় বিষয় আপনার উকিলের সঙ্গে যোগাযোগ করে জেনে নিবেন।

সাংবাদিক হিসেবে ১৯৯৯ সালে আমার বিরুদ্ধে প্রথম মানহানীর মামলাটি দায়ের করে যমুনা শিল্প গ্রুপ। নরসিংদীতে বিষাক্ত মদ খেয়ে দেড় শতাধিক মানুষ মারা যাওয়ার ঘটনায় তৎকালীন বাংলাবাজার পত্রিকায় পর পর তিনটি লীড নিউজ প্রকাশ করি। এতেই সংক্ষুব্ধ হয়ে যমুনা গ্রুপ আমার বিরুদ্ধে ৫০ কোটি টাকার দাবিতে শুধু মানহানী মামলা রুজু করেই ক্ষ্যান্ত হয়নি, প্রথম শ্রেণীর ১৩টি দৈনিক পত্রিকার প্রথম পাতায় “এই সাংবাদিককে ধরিয়ে দিন” মর্মে আমার ছবিসহ বিজ্ঞাপন পর্যন্ত ছাপিয়ে দেয়। প্রথম সেই মামলার ঘটনায় আমার পরিবারে সে কী অবস্থা! রীতিমত শোককাতর পরিবেশ। সদ্য বিয়ে করা স্ত্রীর মুখখানা শুকিয়ে যায়, সে কাগজ কলম নিয়ে হিসেবে বসে। পৈতৃক সূত্রে তার সম্ভাব্য প্রাপ্তির জায়গা জমি, সম্পদ মিলিয়ে কত টাকা হতে পারে সে হিসেব কষতে থাকে বারবার। কিন্তু কোনভাবেই তার পরিমাণ ৫০ কোটির কাছাকাছি না হওয়ায় রাজ্যের দুঃশ্চিন্তা তাকে পেয়ে বসে, কোনো শান্তনাই যেন তার সে চিন্তারাজ্যের মেঘ কাটাতে পারছিল না। ঘুরেফিরে তার একটাই প্রশ্ন, এতো টাকা কিভাবে শোধ করে মুক্তি পাবো আমি, মামলা থেকে বাঁচা।

 

এখনই সময়।

 

 


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরও খবর
Theme Customized By Theme Park BD
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: