সোমবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২২, ০১:৪২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

সংবাদপত্র‌ের সংবাদ দেখে তড়িৎ পদক্ষেপ স্বস্তি জাগায় নাগরিক সমাজে

সাইদুর রহমান রিমন / ১০৩
আপডেট : শনিবার, ২১ আগস্ট, ২০২১, ২:৫৪ পূর্বাহ্ণ

সংবাদপত্রের খবর দেখেই সরকারি তড়িৎ পদক্ষেপে স্বস্তি জাগায় নাগরিক সমাজে

সাঈদুর রহমান রিমন
গত এক সপ্তাহ যাবত আমার লেখা প্রতিবেদনগুলোর ধারাবাহিক ফলাফল প্রাপ্তি ঘটলেও তা পাঠকদের জানানো সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে ঢাকার বাইরে ভাওয়াল গাজীপুরের গজারি বন বেষ্টিত রিসোর্টে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) এর বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা বৈঠকটি অনুষ্ঠানের ঘটনায় তিন দিন অনেকটাই ফেসবুক বিচ্ছিন্ন ছিলাম। সেখানেই কেটেছে বিএমএসএফ পরিবারের সঙ্গে আনন্দঘন সময়। এখন ঢাকায় ফিরেই দায়িত্ববোধ থেকে ঘটনাসমূহ উল্লেখ করছি।
চাঁদপুরে মেঘনার ৬০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে গড়ে তোলা বালু খেকো কাজী মিজানের ভয়ঙ্কর সাম্রাজ্যে ধ্বস নামতে শুরু করেছে। যুবদলের ডাকসাইটে এ ক্যাডারের নেপথ্য খুঁটি হিসেবে চিহ্নিত স্থানীয় সরকারদলীয় সংসদ সদস্য (চাঁদপুর ২ আসন) নূরুল আমিন রুহুল এরইমধ্যে তার আশীর্বাদের ছায়া সরিয়ে নেয়ায় অনেকটাই অরক্ষিত হয়ে পড়েছে কাজী মিজান। এদিকে মতলবে মেঘনার পার ঘেষা প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকা নিজের কব্জায় নিয়ে ওই বালু খেকো গড়ে তুলেছেন ব্যক্তিগত পর্যটন বাণিজ্য। মোহনপুর পর্যটন লিমিটেড নামের সাইনবোর্ডের আড়ালে হোটেল, রেস্তোরা, স্পীডবোট পরিচালনাসহ নানা প্রকাশ্য অপ্রকাশ্য ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। কিন্তু ওই প্রতিষ্ঠানটি এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে অনুমোদিতও নয়। তা সত্তেও অজ্ঞাত ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে কাজী মিজান সরকারি একটি ব্যাংক থেকে ২০০ কোটি টাকা ঋণ মঞ্জুর করিয়ে নেন। অবশ্য এ ব্যাপারে দেশপত্রে সংবাদ প্রকাশের পর পরই জনতা ব্যাংকের মহাপরিচালক আব্দুছ ছামাদ আজাদ জানিয়েছেন, অনুমোদনহীন কোনো প্রতিষ্ঠানের অনুকুলে কোনরকম ঋণ দেয়ার বিধান নেই। এ সংক্রান্ত জাল কাগজপত্র দাখিল করে ঋণ মঞ্জুর করানো হয়ছে কি না তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিবো। এমন হলে অবশ্যই ঋণ মঞ্জুর বাতিল করাসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানিয়েছেন জনতা ব্যাংকের এমডি।

গত সপ্তাহে বাংলাদেশ প্রতিদিনে লীড নিউজ ছাপা হয়েছিল ‘অপ্রতিরোধ্য মাদক মাফিয়ারা’ শিরোনামে। সংবাদ প্রকাশের দিন থেকেই চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, টেকনাফ, উখিয়া এবং রাজধানী ঢাকায় রীতিমত মাদক বিরোধী সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়। পরবর্তী চার দিনের অভিযানেই ১০ লক্ষাধিক পিস ইয়াবা আটক হয়, এর সাথে গ্রেফতার হয় ৩০ জনেরও বেশি মাদক ব্যবসায়ি। অভিযান অব্যাহত গতিতেই চলছে। মাদক নির্মূলের ব্যাপারে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বিশেষ বৈঠকে বসে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদেরও মাঠে নামার নির্দেশ দিয়েছে। এর আগে সৌদিতে ইয়াবা পাচার সংক্রান্ত পর পর কয়েকটি রিপোর্টে উঠে আসে কুমিল্লার গডফাদার শাহ আলম সিন্ডিকেটের নাম। পাচার রোধে তৎপর হয়ে উঠে বিমানবন্দরে দায়িত্বরত আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট। এরমধ্যে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা ক’দিন আগেই শাহ আলমের বিশ্বস্থ ড্রাইভার সাদ্দামকে প্রায় ৯০০০পিচ ইয়াবাসহ বিমানবন্দরের ভেতরে আটক করতে সক্ষম হয়। সাদ্দাম এসব ইয়াবা নিয়ে সৌদির রিয়াদে নিয়ে যাচ্ছিল। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার মধ্য রাতে সৌদির উদ্দেশে যাত্রাকালে আটক করা হয় পালের গোদা মাদক মাফিয়া শাহ আলমকে। শাহ আলম গ্রেফতারের খবরে সৌদি আরবে অবস্থানকারী প্রবাসী বাঙালিদের মধ্যে আনন্দের বন্যা বইয়ে যায়। কারণ শাহ আলমের কারণে সেখানে বাংলাদেশের শ্রমবাজার রীতিমত হুমকির মুখে পড়েছিল।
পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত খবরা খবরের ব্যাপারে সরকারের এমন তৎপরতামূলক ভূমিকা আমাদের আশান্বীত করে, পাশাপাশি নানা প্রশাসনিক তৎপরতায় দেশ ও সমাজে বিদ্যমান অপরাধ দমনে স্বস্তি দেয় নাগরিকদের। অভিযানকারী সকল ইউনিটকে অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরও খবর
Theme Customized By Theme Park BD
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: