শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:৫৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
Logo দুই ছাত্রের একাউন্টে ৯০০ কোটি টাকা পড়ে ষষ্ঠ শ্রেণীতে Logo নির্মানাধীন প্রকল্প মেট্রোরেলের মালামাল চুরি, গ্রেফতার ৫ Logo গৌরনদীতে সাংবাদিক পিতার ফাতেহায় দোয়া-মোনাজাত অনুষ্ঠিত Logo দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘন্টায়  ৩৮ জনের মৃত্যু Logo জামালপুরে নিখোঁজ হওয়া সেই ৩ মাদ্রাসা ছাত্রী ঢাকায় উদ্ধার Logo জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী Logo ইভ্যালির সিইও রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমা র‍্যাবের হাতে গ্রেফতার Logo আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ’র দীর্ঘায়ু কামনায় দোয়া-মোনাজাত Logo গৌরনদীতে সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত-১ Logo ইভ্যালির সিইও মো. রাসেল ও তার স্ত্রী প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে মামলা

ভাষা সৈনিক কাজী গোলাম মাহবুব (ছরু কাজী)

টি এম তুহিন / ৯১
আপডেট : বুধবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ২:২৮ পূর্বাহ্ণ

 

বাংলাদেশের আলোকিত কৃর্তি সন্তান,বরিশাল
বিভাগের গর্ব কাজী গোলাম মাহবুব ছরু কাজীর বর্নাঢ্য জীবন কর্মময় ইতিহাস

 

১৯৫২ সালের সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক. বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সমিতির নির্বাচিত সাবেক সভাপতি. ১৯৫৫ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বরিশাল জেলা সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেতা. ভাষা সৈনিক বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী গোলাম মাহবুব ছরু কাজী।

কাজী গোলাম মাহবুব ১৯২৭ সালে ২৩ নভেম্বর বরিশাল জেলার গৌরনদী উপজেলার কসবা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা কাজী আব্দুল মজিদ এবং মাতা আসিয়া খাতুন।

তিনি ১৯৪২ সালে টরকী বন্দর ভিক্টোরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেন। তিনি ১৯৪৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এল.এল.এম ছাত্র হিসেবে আইন পরিষদে ভর্তি হন। তিনি কলকাতা ইসলামি কলেজ থেকে আই.এ ও বি.এ পাশ করেন।

তিনি ১৯৪৭ সালে মাত্র চৌদ্দজন ভাষা সংগ্রামীদের নিয়ে পাকিস্তান শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে “আমাদের দাবি” সংবলিত ২১ দফা ইশতেহার প্রণয়ন করেন। এই ২১ দফায় দ্বিতীয় ও অন্যতম দফাটি ছিল বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করা সংক্রান্ত। এই ঐতিহাসিক ইশতেহার অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। কাজী গোলাম মাহবুব ছিলেন এর অন্যতম স্বাক্ষরদাতা।

১৯৪৮ সালে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুসারে কাজী গোলাম মাহবুব ভাষা সৈনিক শামসুল হককে সঙ্গে নিয়ে ২১শে ফেব্রুয়ারি সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলার সমাবেশস্থলে হাজির হন। সভায় সংগ্রাম পরিষদের পক্ষে যুক্তি প্রদর্শন করে বক্তব্য রাখেন। ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে উত্তাল জনতা পাকিস্তান সরকারকে কড়া জবাব দেয়ার প্রস্তুতি নেয়। সভায় সিদ্ধান্ত অনুসারে দশজন করে ছাত্রনেতা বের হয়ে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে গ্রেপ্তার হন।
একুশের গুলিবর্ষণের পরবর্তী পরিস্থিতিতে সংগ্রাম পরিষদের করণীয় নির্ধারণের জন্য কাজী গোলাম মাহবুব ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে একটি বৈঠক ডাকেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন উল্লেখযোগ্য ছাত্র নেতারা।

তিনি ১৯৫২ সালে ২ মার্চ কাজী গোলাম মাহবুব সহ নয়জন ভাষা আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ নেতার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে একটি গেজেট প্রকাশিত হয়। গেজেটে প্রকাশিত প্রথম নামটি ছিল কাজী গোলাম মাহবুবের। আন্দোলনের অধিকাংশ নেতাকর্মী গ্রেফতার, যাঁদের ধরা যায়নি তাদের বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি ইত্যাদি ব্যাপক দমননীতির মধ্যে কাজী গোলাম মাহবুবকে গোপন অবস্থানে থেকেও আন্দোলনের কৌশল পরিবর্তন করে কিছু তৎপরতা চালিয়ে যেতে দেখা যায়।

তিনি ১৯৫৫ সালে বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তিনি বরিশাল বারে ওকালতি করতেন।
তিনি ১৯৫৮ সালে সামরিক আইন জারি হলে ঢাকায় এসে হাইকোর্টে আইন পেশা শুরু করেন।

তিনি ১৯৭৮ সালে বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৯১. ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-১ আসন গৌরনদী-আগৈলঝাড়া উপজেলা থেকে বিএনপির প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
তিনি ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হন।

তিনি ২০০৬ সালের ১৯ মার্চ ঢাকায় ইন্তেকাল করেন। তাঁর স্মৃতি রক্ষার্থে ২০০৭ সালে সরকার তার নিজ জন্মস্থানে গৌরনদী উপজেলা চত্বরকে “ভাষা সৈনিক কাজী গোলাম মাহবুব চত্বর” নামকরণ করেন। এবং বাংলাদেশ সরকার তাঁকে একুশে পদকে ভূষিত করেন।

ঢাকা সিটি কর্পোরেশন তার স্মৃতি রক্ষার্থে ধানমন্ডিতে একটি সড়কের নাম তার নামে নামকরণ করা হয়েছে।
এবং তার পরিবার তার স্মৃতি রক্ষার্থে ধানমন্ডিতে তার বাড়িতে বাংলা সংরক্ষণ লাইব্রেরি করেছে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরও খবর
Theme Customized By Theme Park BD
x
%d bloggers like this:
x
%d bloggers like this: