সোমবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২২, ০১:০৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

কিশোর ছেলেকে লুকিয়ে অপহরন মামলা, কেটে গেছে একযুগ! অত:পর

এখনই সময় ডেস্ক / ৯৫
আপডেট : মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৩:১৫ অপরাহ্ণ

 

কথায় বলে, ধর্মের কল বাতাসে নড়ে !

জমা জমি নিয়ে শত্রুতার জের ধরে বরিশাল জেলার গৌরনদীতে মোসা-মরিয়ম বেগম নামের এক গৃহবধু তার স্বামীর সহয়তায় ৭ম শ্রেণিতে পড়ুয়া নিজের কিশোর ছেলেকে রাজধানী ঢাকায় লুকিয়ে রেখে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অপহরণ ও গুমের মামলা করেছিলেন আদালতে। ওই মামলায় হাজত বাসসহ নানা হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়ে অবশেষে ভিকটিমের স্বজনদেরকে উৎকোচ প্রদানের মাধ্যমে ঘটনার ৯ বছর পর ভিকটিককে খুঁজে বের করলেন আসামিরা। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, বরিশাল জেলার গৌরনদী উপজেলার নলচিড়া ইউনিয়নের কলাবাড়িয়া গ্রামের মরিয়ম বেগম নামের এক গৃহবধু তার স্বাামী মো. জালাল মৃধার সহয়তায় নিজের ৭ম শ্রেণিতে পড়ুয়া কিশোর ছেলেকে রাজধানী ঢাকায় লুকিয়ে রেখে ২০১২ সালের ১৪ মে প্রতিপক্ষ এস. রহমান মৃধা ও তার নাবালক দুই ছেলেসহ এলাকার ১৪ জন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বরিশালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে একটি অপহরণ ও গুমের মামলা করেন।

মামলার আবেদনে উল্লেখ করা হয় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষ আসামিরা ওই বছরের ৩ এপ্রিল সন্ধা সাড়ে ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে তার ছেলে নলচিড়া শিববাড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেনীর ছাত্র মো. রাসেল মৃধাকে (১৪) মারধর করে অপহরণ করে নিয়ে গেছে। ওই মামলার ১৪জন আসামির মধ্যে ১২জন বিগত প্রায় ৯ বছর ধরে হাজত বাসসহ নানা হয়রানি নির্যাতনের শিকার হন। একজন আত্নপোপনে গিয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। একজন পালাতকসহ বাকী সবাই বর্তমানে জামিনে আছেন।

এস. রহমান মৃধার স্ত্রী তাসলিমা বেগম জানান, মামলায় হাজত বাসসহ নানা হয়রানী ও নির্যাতনের শিকার হয়ে আমাদের পরিবারটি সর্বশান্ত হয়েছে। তিন ছেলের শিক্ষা জীবন ধ্বংস হয়ে গেছে। এ অবস্থায় হয়ারানি থেকে বাঁচতে আমরা ভিকটিমের আপন চাচাতো ভাইদেরকে নগদ টাকা উৎকোচ প্রদানের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি যে, ভিকটিম রাসেল মৃধা রাজধানী ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানার উত্তর রায়েরবাগ এলাকার একটি অটোরিকসা গ্যারেজে কাজ করছে। সন্ধানদাতার মাধ্যমে আমরা ভিকটিমের অবস্থান সনাক্ত করতে সক্ষম হই এবং তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে আনতে আমরা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপজেলার সরিকল পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এস. আই ফোরকান আহাম্মেদের সহযোগিতা চাই। তিনি আমাদেরকে কোন প্রকার সহযোগিতা করেননি। শেষে আমরা নিজেরাই সেখানে গিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতা নিয়ে সেখানকার একটি চায়ের দোকান থেকে ভিকটিম রাসেল মৃধাকে উদ্ধার করে নিয়ে এসে মঙ্গলবার ভোরে গৌরনদী মডেল থানায় সোপর্দ করি।

অভিযোগ অস্বীকার করে সরিকল পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এস. আই ফোরকান আহাম্মেদ বলেন, আমি দুইদিন ধরে জ্বরে ভুগছি। এ অবস্থায় আমি তাদেরকে ফোনে সহযোগিতা করেছি। উদ্ধারকারীরা খিলগাঁও থানার সহযোগিতা চায়। তখন আমি ওই থানার ওসি অপারেশনের সঙ্গে কথা বলে ভিকটিম গৌরনদীতে আনায় সহযোগিতা করেছি।

অপহরণ মামলার বাদী ভিকটিম রাসেল মৃধার মা মরিয়ম বেগম বলেন, আমার ছেলেকে ওরাই নিয়ে গুম করে রেখে ওরাই আবার বের করে এনেছে। ভিকটিম রাসেল মৃধাকে উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করে গৌরনদী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. হেলাল উদ্দিন জানান, ভিকটিমকে থানা পুলিশের হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে তাকে বরিশাল আদালতে সোপর্দ করা হবে।

গৌরনদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুর রব হাওলাদার বলেন, ভিকটিম রাসেল এক এক সময় এক এক রকম তথ্য দিচ্ছে। আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রেখেছি।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরও খবর
Theme Customized By Theme Park BD
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: