রবিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২১, ০৩:৩৭ অপরাহ্ন

করোনা টিকাকে গণপণ্য ঘোষণার আহবান প্রধানমন্ত্রীর

মামুন অর রশিদ (ডেস্ক নিউজ) / ৪১
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৯:২১ পূর্বাহ্ণ

 

নিউইয়র্ক থেকে:  করোনা মহামারী থেকে পরিত্রাণ পেতে বিশ্বব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনার জন্য কোভিড-১৯ এর টিকাগুলোকে “বৈশ্বিক জনস্বার্থ সামগ্রী” হিসেবে ঘোষণা করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আয়োজনে “গ্লোবাল কোভিড-১৯ সামিট: এন্ডিং দ্যা প্যানডেমিক অ্যান্ড বিল্ডিং ব্যাক বেটার হেলথ সিকিউরিটি” শীর্ষক শীর্ষ সম্মেলনে প্রচারিত ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।

যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় ভার্চুয়াল এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, কার্যকরভাবে বিশ্বব্যাপী টিকা দান কার্যক্রম নিশ্চিত করতে কোভিড ভ্যাকসিনগুলোকে “বৈশ্বিক জনস্বার্থ সামগ্রী” হিসেবে ঘোষণা করা দরকার।

বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেন, টিকা লাভের সার্বজনীন অধিকার নিশ্চিত করা লক্ষ্যে সক্ষমতা রয়েছে এমন উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মাধ্যমে টিকার স্থানীয় উৎপাদনের সুযোগ দেওয়া উচিত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার কোভিড-১৯ মহামারির বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য তিনটি ধাপে পন্থা অবলম্বন করেছে। “প্রথমত, জীবন বাঁচানোর লক্ষ্যে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধা, যন্ত্রপাতি, জীবনরক্ষাকারী ওষুধ এবং সম্পদ বরাদ্দ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে আমাদের নাগরিকদের, বিশেষ করে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জীবিকা সুরক্ষায় সহায়তা প্রদান করা এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপ পুনরুদ্ধার করা।”

তিনি বলেন, “আমরা প্রথমে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা এবং সামাজিক সুরক্ষা নেট কর্মসূচির উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নীতির দিকে মনোনিবেশ করছি।”
দ্বিতীয় ধাপের বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার টেকসই অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য কাজ করছে, যাতে উদ্ভাবন, কর্মসংস্থান এবং বিনিয়োগের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
তৃতীয়ত তিনি বলেন, জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতা এবং কম কার্বণ নিঃসরণের দিকে মনোনিবেশ করা হচ্ছে।
কোভিড-১৯ মহামারির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সরকারি উদ্যোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, “এখন পর্যন্ত আমরা ১৫ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের প্রণোদনা প্যাকেজ বরাদ্দ করেছি, দরিদ্র, বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মীসহ ৪ দশমিক ৪ মিলিয়ন সুবিধাভোগীদের ১৬৬ মিলিয়ন ডলার বিতরণ করেছি।”
১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩৫ মিলিয়নের বেশি টিকা দেওয়া হয়েছে বলেও সম্মেলনে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি “২০২২ সালের আগস্ট মাসের মধ্যে আমাদের জনসংখ্যার ৮০ শতাংশ লোককে টিকা না দেওয়া পর্যন্ত আমরা প্রতি মাসে ২০ মিলিয়ন মানুষকে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছি।”

সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কোভিড-১৯ মহামারী অবসানে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার জন্য রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান, আন্তর্জাতিক সংস্থা, ব্যবসায়ী এবং বেসরকারি নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইডোডো, আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাপোসা এবং জাতিসংঘ মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেস বক্তৃতা দেন।

হোয়াইট হাউস আমন্ত্রিতদের জানিয়েছে, এ বছরের শেষের দিকে এবং ২০২২ সালের শুরুতে ফলো-আপ ইভেন্টগুলো অংশগ্রহণকারীদেরকে তাদের প্রতিশ্রুতির জন্য দায়বদ্ধ রাখার উদ্দেশে আয়োজন করা হচ্ছে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরও খবর
Theme Customized By Theme Park BD
x
%d bloggers like this:
x
%d bloggers like this: