বৃহস্পতিবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২২, ০৯:৪১ পূর্বাহ্ন

শক্তিমান অভিনেতা রাজিবের বর্ণাঢ্য জীবন

এখনই সময় ডেস্ক / ৬৭
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৭ অক্টোবর, ২০২১, ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ

পরিচিতি প্রতিবেদন——

বরিশাল বিভাগের আলোকিত কৃর্তি সন্তান, ঢাকাই চলচিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা রাজীব,২০০৪ সালের ১৪ নভেম্বর শক্তিমান এ অভিনেতা ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।প্রায় দুই শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন প্রয়াত এই খলনায়ক। রাজীবের পুরো নাম ওয়াসীমুল বারী রাজীব। অভিনয় জীবনের স্বীকৃতিস্বরূপ শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনেতা হিসেবে চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ছাড়াও অসংখ্য সম্মাননা লাভ করেছেন।

ওয়াসীমুল বারী রাজিব ১৯৫২ সালের ১ জানুয়ারি মাসে পটুয়াখালী জেলার দুমকী উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পেশাজীবন শুরু করেন তিতাস গ্যাস কোম্পানিতে। অভিনয়ের শখ থেকেই জড়িয়েছিলেন মঞ্চ নাটকে। মঞ্চ থেকে কাজ করেছেন বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনে।
রাজিব ঢালিউডে নায়ক হয়ে পা রাখেন ১৯৮১ সালে “রাখে_আল্লাহ_মারে_কে” ছবিতে। তবে নায়ক হয়ে তার খ্যাতি আসে কাজী হায়াৎ পরিচালিত “খোকনসোনা” ছবিতে। তবে সিনেমায় রাজীবের উত্থান বা সাফল্যের গল্পটা ভিলেন হিসেবে।
তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে হাঙর নদী গ্রেনেড, প্রেম পিয়াসী, সত্যের মৃত্যু নেই, স্বপ্নের পৃথিবী, আজকের সন্ত্রাসী, দুর্জয়, দেনমোহর, স্বপ্নের ঠিকানা, মহামিলন, বাবার আদেশ, বিক্ষোভ, অন্তরে অন্তরে, ডন, কেয়ামত থেকে কেয়ামত, ভাত দে, অনন্ত ভালোবাসা, রাজা শিকদার ও বুকের ভেতর আগুন, সাহসী মানুষ চাই, বিদ্রোহ চারিদিকে ও দাঙ্গা প্রভৃতি।
রাজীব সম্পর্কে কয়েকটি তথ্য
তাঁর অভিনয় দক্ষতা, ভরাট একই সাথে ঝাঁঝালো কণ্ঠস্বর ছিল অনন্য বৈশিষ্ঠ। রাজীবের চোখের ব্যবহার ছিল দুর্দান্ত। এই চোখ দিয়েই তিনি নিজেকে অন্যতম খল অভিনেতা হিসবে প্রতিষ্ঠিত করেন। ২০০৪ সালে মাত্র ৫২ বছর বয়সে এই অভিনেতা ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। আসুন তার সম্পর্কে কয়েকটি তথ্য জেনে নেই।
১. চলচ্চিত্রে রাজীব নামে পরিচিত হলেও তার পুরো নাম ওয়াসিমুল বারী রাজীব
২. ১৯৫২ সালের ১ জানুয়ারি দক্ষিণের জেলা পটুয়াখালীর দুমকিতে জন্মগ্রহণ করেন।
৩.কাজী হায়াতের খোকন সোনা নামের একটি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে রুপালি পর্দায় পা রাখেন।
৪. রাজীবের গুরু বলা হয় কাজী হায়াতকে।
৫. রাজীব শ্রেষ্ট পার্শ্ব অভিনেতা বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন চারবার— হীরামতি (১৯৮৮), দাঙ্গা (১৯৯১),বিদ্রোহ চারিদিকে (২০০০) ও সাহসী মানুষ চাই (২০০৩)
৬. রাজীবের ক্যারিয়ারের শুরুটা ছিল ফ্লপ। কেননা তার শুরুটা ছিল নায়ক হিসেবে, কিন্তু সফল হয়েছিলেন খল নায়ক হিসেবে।
৭. উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র- ভণ্ড, দাঙ্গা, বিক্ষোভ, মীরজাফর, দেশদ্রোহী, ক্ষমা, জবরদখল, লুটতরাজ, মৃত্যুদণ্ড, মগের মুল্লুক, কেয়ামত থেকে কেয়ামত, স্বপ্নের পৃথিবী, সত্যের মৃত্যু নেই, স্বপ্নের ঠিকানা, মহামিলন, ত্রাস, উছিলা, মিয়া ভাই, হাঙর নদী গ্রেনেড, ভাত দে (১৯৮৪)
৮. বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) এর ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
আমি তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করি আমিন।

——– বরিশাল বিভাগ
জেলা, মহানগর ও উপজেলা পর্যায়ে দেশের বিভিন্ন অঙ্গনের জাতীয় আলোকিত ব্যক্তিত্বের জীবনী পরিচিতি লেখার ধারাবাহিকতায় এবার দেশের অন্যতম খ্যাতিমান বিশিষ্ট অভিনেতা জনাব ওয়াসীমুল বারী রাজীব এর সম্পর্কে কিছু তথ্য আপনাদের নিকট তুলে ধরার চেষ্টা করেছি মাত্র।

—– জাহিদুল ইসলাম মামুন,


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরও খবর
Theme Customized By Theme Park BD
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: