সোমবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২২, ১২:১৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

কাজী মোতাহার হোসেন

এখনই সময় ডেস্ক / ৭৮
আপডেট : শুক্রবার, ৮ অক্টোবর, ২০২১, ৫:৫৩ পূর্বাহ্ণ

কাজী মোতাহার হোসেনের জন্ম ১৮৯৭ সালের ৩০ জুলাই, আর তিনি ইন্তেকাল করেন১৯৮১ সালের ৯ অক্টোবর। আজ তার ৪০তম মৃত্যুবার্ষিকী ।
কাজী মোতাহার হোসেন; ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ যাঁকে অভিহিত করেছেন ‘আপনভোলা নিরহংকার মানুষ, বিদ্বান ও গুণী’ হিসেবে। যাঁকে নিয়ে অন্নদাশঙ্কর রায় বলেছিলেন, “একজন উদারমনা মুসলমান ও সেই সঙ্গে দেশপ্রাণ বাঙালি এবং সকলের উপর একজন সৎ মানুষ।” তাঁর সাহিত্যের মূল্যায়ণ করতে গিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন- তাঁর রয়েছে ‘স্বচ্ছ প্রাঞ্জল ভাষা’, ‘বলবার সাহস’ ও ‘চিন্তার স্বকীয়তা’। এই মানুষটিই বাংলাদেশে মুক্তচিন্তা ও প্রগতিশীলতা বিকাশের এক অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব।
কাজী মোতাহার হোসেনকে এভাবে বাঙালি, বিশেষত বাংলাদেশী বাঙালিদের কাছে পরিচয় করিয়ে দেবার কারণ- যে দেশ বা দেশের মানুষকে শিক্ষিত করে তুলতে আজীবন ‘দ্য ল্যাম্পলাইটার’ হয়ে শিক্ষার আলো ছড়িয়েছেন তিনি, সে দেশের মানুষের কাছে তিনি এখন ক্রমেই ‘নাম শুনেছি বলে মনে হচ্ছে’ হয়ে উঠেছেন ।
বার্ধক্যে এসে তাঁর সবচেয়ে বড় সঙ্গী হয়ে ওঠে দাবার বোর্ড। কানে কিছুটা কম শুনতে পেতেন বলে মানুষের সাথে খুব একটা কথা বলার, গল্প বা আড্ডার সুযোগ হতো না তাঁর। তাই যেখানেই দাবাড়ু পেতেন দাবার বোর্ড সাজিয়ে বসে পড়তেন। এই মহান ঋষিতুল্য মানুষটি ১৯৮১ সালের ৯ অক্টোবর মারা যান, দিনটা ছিল ঈদের দিন।
একজন প্রগতিশীল শিক্ষাবিদ বা সাহিত্যিক, গণিতবিদ-বিজ্ঞানী, দাবাড়ু বা সঙ্গীতানুরাগী- এই সবগুলো পরিচয়ের হাত ধরেই তিনি বাংলাদেশের মানুষের বুদ্ধিবৃত্তি, প্রগতিশীলতা, মুক্তচিন্তার অন্যতম অভিভাবক হয়ে উঠেছিলেন। তাঁদের তৈরি করা ভিতের উপরই দাঁড়িয়ে আছে আজকের বাংলাদেশ।
কাজী মোতাহার হোসেনের জন্ম ১৮৯৭ সালের ৩০ জুলাই, তৎকালীন নদীয়া জেলার ভালুকা (বর্তমান কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী) থানার লক্ষ্মীপুর গ্রামে, মাতুলালয়ে। পৈতৃক নিবাস রাজবাড়ী জেলার পাংশা থানার বাগমারা গ্রামে। মোতাহার হোসেনের পূর্বপুরুষ মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের শাসনামলে দিল্লি-দরবারে ধর্মীয় উপদেষ্টা ও বিচারক (কাজী) পদে নিযুক্ত ছিলেন। এই সূত্রেই মোতাহার হোসেন ‘কাজী’ পদবী লাভ করেন। পিতা কাজী গওহরউদ্দীন আহমদ ও মাতা তসিরুন্নেসার আট ছেলে-মেয়ের মধ্যে সবার বড় ছিলেন কাজী মোতাহার হোসেন। বাবা কাজী গওহরউদ্দীনের সরকারি চাকরি ছিল, তাঁর সংসারে অসচ্ছলতা ছিল নিত্য সঙ্গী। বালক মোতাহারের পড়ার খরচ পুরোপুরি বহন করা তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল না। শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই বৃত্তি পেতেন বলে সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত লেখাপড়া করা তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়েছিল। কখনো কখনো বৃত্তির টাকার সংসারে খরচ করে নিজের খরচ চালানোর জন্য টিউশনি বা দীর্ঘমেয়াদী বন্ধে (গ্রীষ্ম বা পূজার বন্ধে) বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করতেন তিনি। দারিদ্র্যের সাথে লড়াই করেছেন, কিন্তু লেখাপড়া ছেড়ে দেননি।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরও খবর
Theme Customized By Theme Park BD
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: