সোমবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২২, ১১:৪৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :

শেষ রক্ষা হচ্ছে না গসিক মেয়র জাহাঙ্গীরের

এখনই সময় ডেস্ক / ৩১৪
আপডেট : সোমবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২১, ১২:০৪ অপরাহ্ণ

সাইদুর রহমান রিমন:
বহুমুখী কৌশলী পদক্ষেপ, বেশুমার অর্থের ছড়াছড়ি, সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে গোপন যোগসূত্রের পরও গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের শেষ রক্ষা হচ্ছে না। সর্বোচ্চ চেষ্টা তদবিরের পরও তার অস্তিত্ব রক্ষা কিংবা পদ পদবী টিকিয়ে রাখা দিন দিনই কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে পড়ছে। নানামুখি রাজনৈতিক চালবাজির ঘোরপ্যাচে চরম বিপাকে আটকে পড়েছেন মেয়র জাহাঙ্গীর। নিজে নানা কুটকৌশল ব্যবহার করেও সেই চোরাবালি থেকে নিস্কৃতি পাচ্ছেন না।
গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে এরইমধ্যে (গত ৩ অক্টোবর) কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ শোকজ করে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের ব্যাখ্যা চেয়ে পাঠানো শোকজ নোটিশের জবাব দিতে ১৫ দিন সময়সীমাও বেধে দেয়া হয়। ওই সময় জাহাঙ্গীর আলম ঘাটে ঘাটে ধর্ণা দিয়ে, যথারীতি হাদিয়া গুণে নিশ্চয়তা পেয়েছিলেন যে, শো’কজ প্রদান ও তার জবাবদানের চিঠি চালাচালিতেই বিষয়টি চাপা দেয়া হবে। কিন্তু শো’কজের জবাবে ১৭ অক্টোবর মেয়র যে ব্যাখ্যা পাঠিয়েছেন তা অগ্রহণযোগ্য ও দায়সারা গোছের বলে চিহ্নিত করেছে কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দ। শিগগিরই এ সংক্রান্ত এক বৈঠকে জাহাঙ্গীর আলমের ভাগ্য নির্ধারন হওয়ার কথা রয়েছে। এরমধ্যেই দলীয় হাইকমন্ডি থেকে বিশেষ সহানুভূতির আলাদা বার্তা না থাকলে যে উইকেটের পতন ঘটবে এটা অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে আছে।
গাজীপুরে মেয়রের অর্থপ্রেমী আর চোখের সীমানায় ভক্ত সমর্থক হয়ে থাকা মহলটি এখনো জোর গলাতেই বহাল থাকার কল্পকাহিনী ছড়িয়ে বেড়াচ্ছেন। পরমুহূর্তে তারাই নিজেদের কপাল ঠুকেন আর দায়ী করেন মেয়রকে। বলেন, অস্তিত্বহীন কয়েকজনকে আকাশসম বিশ্বাস করাটাই মেয়রের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু নির্বাচন পূর্ব সময়ের জাহাঙ্গীর আলম মেয়র হয়েই যে আমূল বদলে গেছেন, রাজ্যের কর্কশ আচরণে গাজীপুরবাসীকে কাঁদিয়ে ছাড়ছেন আর সেখানকার সর্বকালের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা প্রয়াত আহসানউল্লাহ মাস্টারের ছেলে রাসেল আহসানকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্যতায় ছুড়ে ফেলার যে স্পর্ধা দেখানো শুরু করেছেন…সেসব বিষয় জেলাবাসী থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব পর্যায়ের কেউ তা মেনে নিতে পারেননি। ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যানের জন্যই উন্মুখ ছিলগোটা গাজীপুর। ঠিক সে মুহূর্তেই জ্বলন্ত আগুনে জাহাঙ্গীর আলম নিজেই ঢেলে দিয়েছেন ঘি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ও মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তিনি সীমাহীন ঔদ্ধত্যতাপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। প্রমানিত সে মন্তব্যের পরও তাকে দলে ঠাঁই দিতে হলে আওয়ামীলীগের গঠনতন্ত্র সংশোধনের প্রয়োজন আছে বলে সিনিয়র নেতারা অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

আসলে কী ঘটেছিল নেপথ্যে…???
=====
প্রথম আলোর সাবেক টঙ্গী রিপোর্টার আলম চাকুরিচ্যুত হওয়ার পর ইঞ্জিনীয়ার হেলালের মাধ্যমে মেয়র জাহাঙ্গীরের সঙ্গে পরিচিত হন। তারই সুপারিশে আলম সুযোগ পান জাহাঙ্গীরের মিডিয়া বিভাগ দেখভাল করার। একপর্যায়ে ব্যাপক আধিপত্য বিস্তার লাভসহ অনিয়ম দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ায় জাহাঙ্গীর তাকে ঘার ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়। এ আক্রোশ পুষে রাখেন আলম। সে দীর্ঘ চেষ্টার পর জাহাঙ্গীরের আরেক ঘনিষ্ঠজন জামালের মাধ্যমে মদের আসরের অডিও বক্তব্য গ্রহণ করেন এবং তা ভাইরাল করে দেন। ফেসবুকে ছড়ানোর ক্ষেত্রে ৩৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মামুন মন্ডলের সহায়তায় তা বুস্ট করেন সর্বত্র… এদিকে আলোচনা সমালোচনা চাপা দিতে মেয়র জাহাঙ্গীর শতাধিক পত্রিকায় শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে ঢাউশ সাইজের বিজ্ঞাপন প্রকাশ করেন। কিন্তু কারো কোনো বিল প্রদান করা হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। ওই বিজ্ঞাপনের মোটা টাকা বিল হিসেবে জাহাঙ্গীর আলমের সিটি কর্পোরেশনে বকেয়া থাকায় পত্রিকাগুলোতে তার বিরুদ্ধে সংবাদ লেখা পুরোপুরিই বন্ধ হয়ে গেছে। এখন কোনো রিপোর্ট ছাপা হলে যদি আটকে যায় বিজ্ঞাপন বিল? এবার বুঝুন বাটপারির উপর চিটারি কাকে বলে?
#


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরও খবর
Theme Customized By Theme Park BD
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: