সোমবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২২, ০১:৩৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

ক্লুলেস হত্যার ২৪ ঘন্টার মধ্য‌ে উদঘাটন আসামী গ্র‌েফতার পিবিআই”র

এখনই সময় ডেস্ক / ৮১
আপডেট : রবিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২১, ৯:৪৭ পূর্বাহ্ণ

২ডিসেম্বর রাত আটটায় তুরাগ দিয়াবাড়ীর ঝাউবন এলাকা থেকে অজ্ঞাতনামা এক তরুনীর (৩০) লাশ উদ্ধার করে তুরাগ থানা পুলিশ। উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে ডিআইজি পিবিআই জনাব বনজ কুমার মজুমদার, বিপিএম (বার), পিপিএম এর নির্দেশনায় ঢাকা মেট্রো (উত্তর)-এর বিশেষ পুলিশ সুপার জনাব মোঃ জাহাঙ্গীর আলমের তত্ত্বাবধানে পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) মোহাম্মাদ তরিকুল ইসলামের নেতৃত্বে লাশ সনাক্তের জন্য একটি জরুরী টিম প্রেরন করেন। পিবিআইয়ের চৌকসদল তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে উক্ত অজ্ঞাতনামা মহিলার নাম পরিচয় সনাক্ত করে জানতে পারে তার নাম পারভীন @ ফেন্সি আরা পিতাঃ-রমজান আলী, সাং-সরকার পাড়া, ইউনিয়ন আলোকডিহি, চিরিরবন্দর, দিনাজপুর। উক্ত লাশ সনাক্তের সাথে সাথে পিবিআইয়ের চৌকস তদন্তদল তাৎক্ষনিকভাবে তদন্ত শুরু করে তার গ্রামের বাড়িতে তার স্বামী মোমিনুল সহ অন্যান্য আত্বীয় স্বজনের সাথে যোগাযোগ করে জানতে পারে ভিকটিম ফেন্সি এক/দেড় বছর আগে অভাবের তাড়নায় স্বামী সন্তান সহ ঢাকা শহরে চলে আসেন। ঢাকাতে এসে তিনি ফ্লাট নং-এ-১/নিকেতন, গুলশানে-১ বাড়ি নং-১৫ রোড নং-০৬ ব্লক-ই ঠিকানায় জনৈক সৈয়দ জসীমুল হাসান (৬৩) পিতাঃ-সৈয়দ মোশারফ হোসেন এর বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করতেন। প্রাথমিকভাবে জানা যায় ঘটনার দিন ০১/১২/২০২১ খ্রিঃ সকালে আনুমানিক ০৯ ঘটিকার সময় ঝগড়াঝাটির এক পর্যায়ে গৃহকর্ত্রী সৈয়দা সামিনা হাসান (৫৫) তাকে লাঠি দিয়ে বেদম প্রেহার করে। এতে সে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে তাৎক্ষনিকভাবে জ্ঞান হারায় এবং মৃত্যুর কোলে ঢলে পরে। এ ঘটনায় গৃহকর্তা ও গৃহকর্তী শলাপরামর্শ করে লাশ গোপন করার উদ্দেশ্যে ড্রাইভার রমজান আলী (৪১) এর সহায়তায় প্রাইভেট কারে (গাড়ী নং-২২-৪৫৪৪) করে তুরাগ দিয়াবাড়ী এলাকায় ঝাউবনে ফেলে আসে। উক্ত ঘটনা তদন্তকালে আরো জানা যায় ভিকটিম ফেন্সি আরার স্বামী মোমিনুল ঢাকা শহরে রিকশা চালাতেন। ফেন্সি ঐ বাসায় কাজে নেয়ার পর থেকে তিনি তার স্ত্রীর সাথে দেখা সাক্ষাৎ করতে পারতেন না। এ সংক্রান্তে একদিন তার স্ত্রী ফোনে জানায় তাকে উক্ত গৃহকর্তী মারধর করে আটকে রাখে। এ সংবাদ প্রাপ্ত হয়ে তিনি গুলশান থানায় একটি সাধারণ ডায়রীও করেন। এরপর তিনি একদিন ঐ বাসায় গিয়ে তার স্ত্রীর সাথে দেখা করে আসেন। কিন্তু এরপর আর কোন দিন দেখা করতে পারেননি। পরে গত অক্টোবরে তিনি তার গ্রামের বাড়ি চলে যান। জিজ্ঞাসাবাদে মোমিনুল আরও জানায় ঐ বাসায় তার স্ত্রী কাজ নেওয়ার পর থেকে গৃহকর্তা জসীমুল হাসান (৬৩) প্রতি মাসে তার মোবাইলে বিকাশের মাধ্যমে ১০০০/-(এক হাজার) টাকা করে পাঠাতো। কিন্তু তার সাথে দেখা সাক্ষাৎ করতে দিতো না। ভিকটিমের একমাত্র সন্তান তার দাদীর কাছে থাকে। উক্ত ঘটনায় ভিকটিম ফেন্সির স্বামী মোমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে তুরাগ থানায় মামলা নং-০৪ তারিখঃ-০৪/১২/২০২১ খ্রিঃ ধারা-৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড দায়ের করেন। উক্ত মামলাটি স্ব-উদ্যেগে পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর) তদন্তভার গ্রহনপূর্বক পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম কে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হলে সে তাৎক্ষনিকভাবে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে এজাহারনামীয় আসামীদ্বয়কে গ্রেফতারে সক্ষম হয় এবং আসামীদের স্বীকারোক্তি মোতাবেক মামলার সংশ্লিষ্ট আলামত প্রাইভেট কার (গাড়ী নং-২২-৪৫৪৪) একটি লাঠি ও একটি বিছানার চাদর ঘটনাস্থল হতে জব্দ করেন।

পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর)-এর জোর প্রচেষ্টায় ঘটনার ৭২ ঘন্টার মধ্যে অজ্ঞাতনামা তরুনীর লাশ সনাক্ত ও মূল আসামী গ্রেফতার এবং আলামত উদ্ধার সম্ভব হয়। আসামীরা জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরও খবর
Theme Customized By Theme Park BD
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: